ব্রিকসের বৈঠকে ইরান-আমিরাতের বাগবিতণ্ডা কেন?
ব্রিকসের বৈঠকে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়েছে।
বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, তার দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সরাসরি জড়িত ছিল আমিরাত।
রয়টার্স বলছে, বৃহস্পতিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ চলাকালে আমিরাত সফরের দাবি করার পরদিনই এ উত্তেজনা প্রকাশ্যে আসে। তবে আমিরাত নেতানিয়াহুর ওই দাবি অস্বীকার করে। এর আগে আরাগচি বলেছিলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।’
বৃহস্পতিবার ব্রিকসের বৈঠকে আমিরাতের প্রতিনিধির বক্তব্যের জবাবে আরাগচি বলেন, ‘ঐক্যের স্বার্থে আমি আমার বক্তব্যে আমিরাতের নাম উল্লেখ করিনি। কিন্তু সত্য হলো, আমার দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে আমিরাত সরাসরি জড়িত ছিল। হামলা শুরু হওয়ার পর তারা নিন্দাও জানায়নি।’
তবে আমিরাতের প্রতিনিধি ঠিক কী মন্তব্য করেছিলেন, তা ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্পষ্ট করেনি।
খবরে বলা হয়, আরাগচি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা ইসরায়েলের সঙ্গে জোট আমিরাতকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তিনি আমিরাতকে তেহরানের প্রতি তাদের নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করতে হবে। আর এর জন্য দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ও পূর্ণ বোঝাপড়া প্রয়োজন।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর যুদ্ধ শুরু হয়। জবাবে তেহরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, এপ্রিলের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেয় আমিরাত। একইসঙ্গে পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবও ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক গোপন হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, ইরানি গণমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, ইরান ও আমিরাতের মতপার্থক্যের কারণে ভারতের ব্রিকস বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, আমিরাতের উপস্থিতির কারণে সেখানে ‘সমস্যা ও জটিল যোগাযোগ পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে।
