ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত ২, আহত শতাধিক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে মসজিদের ইমামসহ ২ জন নিহত ও অন্তত শতাধিক আহত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে নদীবেষ্টিত প্রত্যন্ত গোয়ালনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয় এবং বিকেলে এ প্রতিবেদন তৈরি পর্যন্ত চলছিল।
নাসিরনগরের চাতলপাড় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত এমপি এম এ হান্নানের অনুসারী বিএনপি নেতা রহিম তালুকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম কামরুজ্জামান মামুনের অনুসারী কাশেম মিয়ার লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
নিহত হাবিবউল্লাহ (৪০) গোয়ালনগর গ্রামের স্কুলপাড়া এলাকার মসজিদের ইমাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের সমর্থক ছিলেন।
অপরিদকে নিহত আক্তার মিয়া বিএনপি নেতা রহিম তালুকদারের সমর্থক ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বিরোধের সূত্রে সহিংসতার সূত্রপাত। সেদিন অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি সমর্থক জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনী আটক করে ও ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।
তাকে আটকের পেছনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের সমর্থক শিশু মিয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকা সন্দেহে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এরপর থেকে একাধিক দফায় সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
সবশেষ গত সপ্তাহে বাড়িঘরে হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এমপি হান্নানের মধ্যস্থতায় বিষয়টি আপাতত মীমাংসা হয়।
গতকাল সোমবার এমপি হান্নান গোয়ালনগর সফর করার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরে আজ মঙ্গলবার সকালে উভয়পক্ষের লোকজন টেঁটা, বল্লম, তীর-ধনুকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ ধীরে ধীরে গোয়ালনগর গ্রাম থেকে পুরো ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ে।
রহিম তালুকদারের পক্ষে গোয়ালনগর ছাড়াও রামপুর, মাছমা, টেকানগর ও ভিটাডুবি গ্রামের লোকজন অংশ নেয়। অন্যদিকে কাশেম মিয়ার পক্ষে স্কুলপাড়া, শিমেরকান্দি, লালুয়ারটেক, সোনাতোলা, ঝামারবালি ও কদমতলীসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়।
বিকেলে পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। এছাড়া শতাধিক আহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এলাকায় এখনো সংঘর্ষ চলছে।'
আহতদেরকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।'
জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, 'পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাবিবুল্লাহ টেঁটাবিদ্ধ হলে তাকে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আক্তার মিয়া টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।'
যোগাযোগ করা হলে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম কামরুজ্জামান মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এমপি হান্নান নিজের লোকজন দিয়ে এই মারামারি করাইছে। তিনি সরাসরি উসকানি দিয়েছেন। আমার লোকজনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করতে পারিনি। অনেকে ভাগলপুরে, আবার অনেকে অষ্টগ্রামে চিকিৎসা নিচ্ছে। একজন মাওলানা অষ্টগ্রামে মারা গেছেন।'
মন্তব্যের জন্য এমপি এম এ হান্নানকে কল করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ১৭ মার্চ একই বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন।