প্রকৃতি ও মানুষের মঙ্গল কামনায় বট-পাকুড়ের বিয়ে
উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বাস ও লোকাচারের এক অনন্য মেলবন্ধনে ঠাকুরগাঁওয়ে ধুমধামের সঙ্গে বট ও পাকুড় গাছের প্রতীকী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের কিসমত পাহাড়ভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সনাতন ধর্মীয় রীতিতে যেভাবে মানুষের বিয়ের আয়োজন করা হয়, ঠিক সেভাবেই বট-পাকুড়ের বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন অনেকেই।
আয়োজকরা বলেন, ‘প্রকৃতি ও মানুষের মঙ্গল কামনায় এ বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।’
এই বিয়েতে বটগাছ কনে আর পাকুড় গাছ বর। কালিমন্দিরের পাশের পুকুর পাড়ে থাকা বট গাছকে লাল-হলুদ শাড়ি আর পাকুড় গাছকে ধুতির সঙ্গে পরানো হয় ফুলের মালা।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আসা পুরোহিত শুভন চক্রবর্তী বলেন, ‘বরের বয়স ৪ বছর আর কনের ৩। তারা একসঙ্গে বড় হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বট ও পাকুড় হিন্দুশাস্ত্রে দেবতা বৃক্ষ। পূজাতেও এই দুটি গাছ লাগে।’
এ কারণে বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মূলত ব্যক্তির মোক্ষলাভ বা পরিত্রাণ ও প্রকৃতি বিনাশের হাত থেকে রক্ষা করা এবং মানুষকে বৃক্ষপ্রেমী করে তোলার উদ্দেশ্যেই এই বিয়ের আয়োজন।
বট-পাকুড়ির এই বিয়েতে কনেপক্ষের বাবার দায়িত্ব পালন করেন পরিমল চন্দ্র বর্মন (৫৫)। আর বরপক্ষের সব দায়িত্ব নেন বলরাম সরকার (৪০)।
দ্য ডেইলি স্টারকে পরিমল চন্দ্র বর্মন জানান, চার বছর আগে বট আর তিন বছর আগে পাকুড় গাছটি লাগানো হয়েছিল। প্রবীণদের পরামর্শে প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় তিনি এই বিয়ের আয়োজন করেছেন।
বলরাম সরকার বলেন, ‘পরিবারের বড়দের নিয়ে আনুষ্ঠানিভাবে এই বিয়ে দিচ্ছি। বিয়ের এই উৎসবে কোনো কমতি রাখা হয়নি।’
আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীসহ প্রায় ৪০০ পরিবারকে নিমন্ত্রণ করা হয় এ আয়োজনে।
পাশের ঝাড়গাঁও গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বট-পাকুড়ের বিয়ের কথা শুনেছি, কিন্তু দেখা হয়নি। খবর পেয়ে আমরা দুজন কৌতূহলী হয়েই বিয়েবাড়িতে এসেছি। এত সব আয়োজন দেখে আমরা অবাক।’
ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, ‘এটি মূলত একটি লোকাচার।’
বট-পাকুড়ের বিয়ে আসলে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা। বট-পাকুড় এমন গাছ, যে প্রকৃতিতে বেশ অবদান রাখে। প্রকৃতিবাদীরা প্রকৃতিপ্রেম থেকে বট-পাকুড়ের বিয়ের এ আয়োজন করেন।