সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী তফসিল নির্ধারণে ইসির বৈঠক আজ

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, বৈঠক শেষে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটকে সামনে রেখে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদেরকে প্রথমে চিঠি দেয় ইসি। সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে জোটগতভাবে নির্বাচন করবে কি-না, সেই বিষয়ে ইসিকে সিদ্ধান্ত জানাতে হয়। এই সময়সীমা ৫ এপ্রিল শেষ হয়েছে।

এই সময় শেষ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা তাদের জোটগত অবস্থান সম্পর্কে কমিশনকে চিঠি দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

আজ ইসির সভার আলোচ্যসুচিতে আরও আছে—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত নির্বাচনী সামগ্রি সংরক্ষণ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে অবহিতকরণ, ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন আগের কিছু গুরুত্বপুর্ণ মামলা এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দায়ের করা নির্বাচনী দরখাস্ত বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করা, নির্বাচনী দায়িত্বপালনকালে আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে ইতিপূর্বে প্রণীত নীতিমালা বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করা।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দিন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামসহ সরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশ করে ইসি। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিসহ ৫০টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ৯টি দল আসন পায়, বাকি ৪১টি দলের মধ্যে জাতীয় পার্টিও রয়েছে। তবে এই দলগুলো কোনো আসন পায়নি।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে গত বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, কমিশন ৬ এপ্রিল বৈঠকে বসবে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে। সেদিনই তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণা হতে পারে।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এই আইন অনুযায়ী মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ নির্ধারণে কমিশনকে বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। এছাড়া গেজেট প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দল ও জোটভিত্তিক সদস্যদের পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হয়।

আইন অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন ৩০০ সাধারণ আসনের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। কোনো দল বা জোট কত আসন পেয়েছে তার অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারণ হয়।

এই হিসেবে বিএনপি পাবে ৩৬টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১২টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোট করলে ২টি আসন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসন পাবে। তবে ছোট দলগুলো জোট না করলে কোনো আসন পাবে না।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর বিএনপির সঙ্গে জোট করছেন। এদিকে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী জোট করছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আলাদা ফ্রন্ট রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে প্রায় দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হবে। এগুলো বর্তমানে নির্বাচন ভবন, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) ওয়্যারহাউজে এবং ১০টি আঞ্চলিক নির্বাচনী কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।