জিয়াউর রহমানকে হত্যার ২ দিন আগে চট্টগ্রাম যান এরশাদ, গুলি করেন মতিউর: জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান তাকে গুলি করেন।
মোজাফফর আরও দাবি করেছেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে, ২৮ মে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।
আইসিটির প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
রোববার আইসিটির তদন্ত সংস্থার ছয় ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর এসব দাবি করেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সোমবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান জোহা।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোজাফফর বর্তমানে কারাগারে আছেন। ওই মামলায় আগেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারীদের অনুমতি দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা কর্মকর্তা হামলা চালিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার সময় নিজের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে মোজাফফর দাবি করেন, ইউনিটপ্রধানের নির্দেশে হত্যার পরদিন সকালে তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে দুই নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহসহ তাকে পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে দাফন করেন।
১৯৮১ সালে মেজর পদমর্যাদায় থাকা মোজাফফরকে প্রায় ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর গত ১৫ জুলাই ঢাকার বনানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মুজাফফরের কথিত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পৃথক একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আগ্রহ দেখায় প্রসিকিউশন। এরপর তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হেলিকপ্টার থেকে গুলি
এদিকে, ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের একজন সাক্ষী।
আজ আইসিটি-১-এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মো. শাবাব হোসাইন মাহের।
মাহের বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার রামপুরা ব্রিজ এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলি চালান। এতে ওই এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০ জন নিহত হন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সমন্বয় নস্যাত করতে এবং হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে ১৮ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল।
শুনানির সময় পলক আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেন। তিনি লাইসেন্স করা সফটওয়্যার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এ সময় তাকে ভারী হেলমেট দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানান পলক।
