শিশু গৃহকর্মী রিক্তার মৃত্যু: প্রধান ২ আসামি গ্রেপ্তার
ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বহুতল ভবন থেকে পড়ে ১১ বছর বয়সী গৃহকর্মী রিক্তা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, আজ ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাসা থেকে ইঞ্জিনিয়ার মো. সবিবুর রহমান (৪৬) ও তার স্ত্রী ফারাহ নুসরাত ওরফে বর্নিকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ধানমন্ডি ৯/এ সড়কের একটি ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার পর গুরুতর অবস্থায় রিক্তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধানমন্ডি থানা সূত্র জানায়, হাসপাতালে রিক্তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং বাম হাত ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় রিক্তার বাবা মো. শাহিন মিয়া মামলা করেছেন।
বাদীর অভিযোগের বরাতে থানা সূত্র জানায়, পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে নিয়োজিত হয় রিক্তা। সেখানে রিক্তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
গতকাল ভবনটির কর্মচারীরা জানান, রিক্তা এ মাসের শুরু থেকে ১১তলার একটি ফ্ল্যাটে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে। ভবনের প্লাম্বার সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় বিকট শব্দ শুনে ভবনটির বাসিন্দা ও কর্মচারীরা দ্রুত বাইরে ছুটে যান।
সাজেদুল বলেন, ‘আমরা চারপাশে খোঁজাখুঁজি করে ভবনের পেছনে মেয়েটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি। তখনও সে জীবিত ছিল এবং দ্রুত শ্বাস নিচ্ছিল।’
প্রথমে রিক্তাকে কাছের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ভবনের তত্ত্বাবধায়ক শাহিন হোসেন জানান, রিক্তা যে ফ্ল্যাটে কাজ করত সেখানে চার সদস্যের একটি পরিবার বসবাস করে। ‘হাসপাতাল থেকে ফিরে আমরা প্রায় ২০ মিনিট ধরে ওই ফ্ল্যাটের ইন্টারকমে কল দিই। পরে একজন কল রিসিভ করেন। তাদের গৃহকর্মী পড়ে মারা গেছে জানানো হলে তারা হাসপাতালে যান।’
রিক্তার বাবা শাহিন মিয়া জানান, তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জে। বর্তমানে তারা টঙ্গীতে বসবাস করেন। প্রায় এক মাস আগে এক দালালের মাধ্যমে রিক্তাকে ওই বাসায় কাজে পাঠানো হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, এক সপ্তাহ আগে ভিডিও কলে মেয়ের মুখে ফোলা দেখতে পেয়ে তিনি দালালকে বলেছিলেন মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে।
তার দাবি, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান তিনি।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।