ফরিদপুরে ৩ দিনে ২ মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় তিন দিনের ব্যবধানে দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার মেঘচামী ইউনিয়নের বামুন্দী সার্বজনীন কালী মন্দিরে একটি প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাতে এই মন্দির থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বামুন্দী (বিল আড়ালিয়া) বাজার কালী মন্দিরেও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় শতবর্ষী বামুন্দী সার্বজনীন কালী মন্দিরটি পাকা দেয়াল ও টিনের ছাউনি দিয়ে নির্মিত এবং এর সামনের অংশ গ্রিল দিয়ে আটকানো থাকে। মন্দিরটির পূজারি বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূজা দিতে গিয়ে দেখেন, গ্রিলের ভেতর দিয়ে বাঁশ বা লাঠিসদৃশ কোনো বস্তু ঢুকিয়ে আঘাত করে শিব প্রতিমার মাথা ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে তিনি বিষয়টি মন্দির কমিটির সভাপতি ও স্থানীয়দের জানান।
বামুন্দী সার্বজনীন কালী মন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জন সরকার জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, গত সোমবার রাতে যখন বামুন্দী বাজার মন্দিরে প্রথম ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, তখন বিষয়টি মধুখালী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাটি চেপে যেতে এবং দ্রুত ভাঙা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার পরামর্শ দেন। ওসির এমন মৌখিক নির্দেশ পেয়ে বাজার কমিটির লোকজন গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিমাটি বিসর্জন দিয়ে দেন।
বামুন্দী বাজার কমিটির সভাপতি নিরোদ চক্রবর্তী জানান, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়ায় তারা কোনো মামলা করেননি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, প্রথম ঘটনার সময়ই পুলিশ শক্ত পদক্ষেপ নিলে মাত্র দুদিনের মাথায় দ্বিতীয়বার এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।
তবে ঘটনা চেপে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুকদেব রায়। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি ঘটনা চেপে যেতে বলব কেন? বাজার মন্দিরের ঘটনায় এখনও মামলা করার সুযোগ আছে। এছাড়া গত রাতে বামুন্দী সার্বজনীন মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।