এয়ারগান ধার করে পাখি শিকার, ভিডিও ধারণে বাধা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বগুড়া

বগুড়ায় এয়ারগান দিয়ে প্রকাশ্যে পাখি শিকারের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শাজাহানপুর উপজেলার কৌচাদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পাখি শিকারের ছবি ও ভিডিও পরে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের রাস্তায় বাঁশঝাড়ের পাশে একজন অত্যাধুনিক এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করছেন। কয়েকটি পাখি শিকার করে মোটরসাইকেলে রাখা ব্যাগে ঢোকানো হয়েছে। শিকার করা একটি হরিয়াল পাখি জবাই করতেও দেখা যায়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পরিচয় জানতে চাইলে সাংবাদিককে প্রথমে ভিডিও ধারণে বাধা দেন ওই শিকারি ও তার সঙ্গে থাকা একজন। পরে তারা মোটরসাইকেলে করে ওই জায়গা থেকে চলে যান।

আজ বুধবার সকালে স্থানীয়রা ওই শিকারীর পরিচয় নিশ্চিত করেন। তিনি শাজাহানপুর উপজেলার জোকা মন্ডলবাড়ির আব্দুর রাজ্জাক সোহাগ। তার সঙ্গে ছিলেন তার স্বজন মাহবুব হাসান লিমন।

পরে আব্দুর রাজ্জাক সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি পাখি শিকারের বিষয়টি স্বীকার করেন।

পাখি স্বীকার কেন করছেন জানতে চাইলে, সোহাগ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা পাখি মারি না। হঠাৎ করে বের হয়ে শখ করে দুটি পাখি মেরেছি। পাখি শিকার করা অন্যায় আমি জানি, আর মারব না।'

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা প্রায়শই প্রকাশ্যে পাখি শিকার করেন।

এয়ারগানের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ বলেন, 'এয়ারগান আমার না। একজনের কাছ থেকে ধার করে চেয়ে নিয়ে পাখি মেরেছি।'

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পাখি শিকারের ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। খুব আয়োজন করে অত্যাধুনিক এয়ারগান দিয়ে পাখি হত্যা করা হচ্ছে। ওই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা উচিত।'

আর্মস অ্যাক্ট ১৮৭৮ অনুযায়ী বাংলাদেশে লাইসেন্সবিহীন এয়ারগান বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ।

অপরদিকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, পাখি হত্যা অপরাধ এবং এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড দেওয়া যাবে।

বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে বগুড়ার উপ-বন সংরক্ষক মো. মতলুবুর রহমানকে ফোন করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ) মো. জাহাঙ্গীর আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'উপ-বন সংরক্ষক ঢাকায় প্রশিক্ষণে গিয়েছেন। পাখি শিকারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনে পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করব।'

জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ ইকবাল ডেইলি স্টারকে সোহাগ ও লিমনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।'