মুন্সীগঞ্জে পরিযায়ী পাখি শিকার: সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ ৬ জনকে জরিমানা
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বিপুল পরিমাণ পরিযায়ী পাখি শিকারের দায়ে ছয়জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তাও রয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায় স্থানীয় জনতা প্রথমে ওই ছয়জনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
অভিযুক্তরা অপরাধ স্বীকার করায় এবং বয়স বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের অর্থদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা এবং বাকি পাঁচজনকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এ সময় পাখি শিকারে ব্যবহৃত তিনটি শটগান, একটি এয়ারগান এবং ৬৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আ স ম হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া (৮১), আবরার উদ্দিন আহমেদ (৭০), হাজী ওসমান আলী (৭৭), মাজহারুল হক কোরেশী (৭০), আব্দুল্লাহ নূর (৭২) ও আরিক আহমেদ (২৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে একটি প্রাইভেটকারে করে ছয়জন ব্যক্তি ঢাকা থেকে গজারিয়ায় আসেন। তাদের সঙ্গে শটগান ও এয়ারগান ছিল। পরে তারা ট্রলারে করে উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় পাখি শিকার করেন।
সন্ধ্যায় ফেরার সময় স্থানীয়রা দেখতে পান, তারা বিপুল পরিমাণ পাখি শিকার করেছেন। সাতটি বস্তায় করে এসব পাখি ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মাথাভাঙ্গা গ্রামের ঈদগাহ এলাকায় গ্রামবাসী আটকে দেয়। পরে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, যার নামে অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স ছিল, তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। তাকে এক লাখ টাকা ও বাকি পাঁচজনকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি বলেন, রাত ১টার দিকে জরিমানার টাকা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অস্ত্রগুলো জব্দ করে থানায় জমা করা হয়েছে। লাইসেন্স পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, এয়ারগান নিষিদ্ধ। সেটি জব্দই থাকবে।