পোস্টাল ব্যালটে ৫ হাজার ৬৭ কারাবন্দির ভোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচ হাজার ৬৭ কারাবন্দি ভোট দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কারাবন্দিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েদি ও হাজতিদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
দেশের ৭৫টি কারাগারে প্রায় ৮৬ হাজার বন্দির মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পাঁচ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধন করেছিলেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ত্রুটির কারণে ৩৮০টি আবেদন বাতিল হয়। ফলে পাঁচ হাজার ৬১০ জন ভোটদানের যোগ্য হন। শেষ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৬৭ জন কারাবন্দী ভোট দেন, আর নিবন্ধিত ৫৪৩ জন ভোট দেননি।
নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৬০ জন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৯ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব, পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকও রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে ৫৬ জন ভোট দিয়েছেন।
জানতে চাইলে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল-ফারহাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারাগার থেকে পাঁচ হাজার ৬৭ কারাবন্দির দেওয়া ভোটসংবলিত ব্যালটের খাম সংশ্লিষ্ট জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ভোট দিয়েছেন কি না, তা প্রকাশ করা যাবে না। তবে নিবন্ধন করা ৬০ জন ভিআইপি বন্দির মধ্যে ৫৬ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।’
কারাসূত্র জানিয়েছে, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক ও দীপু মনি নিবন্ধন করেছিলেন।
তবে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ভোট দেননি, সূত্র জানিয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কয়েক দিন ধরে ভোটগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৩ ফেব্রুয়ারি এক হাজার ৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি এক হাজার ১৩৮ জন, ৬ ফেব্রুয়ারি ৪২০ জন, ৭ ফেব্রুয়ারি ৪৭১ জন, ৮ ফেব্রুয়ারি ২৯৫ জন এবং ৯ ফেব্রুয়ারি ২৩৪ জন কারাবন্দি ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৯৮ জন।
কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় নির্বাচন কমিশনের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে পরিচালিত নিবন্ধন প্রক্রিয়া তিন সপ্তাহ ধরে চলে এবং ৫ জানুয়ারি শেষ হয়। সে সময় দেশের কারাগারগুলোতে প্রায় ৮৬ হাজার বন্দি ছিলেন।
জান্নাত-উল-ফারহাদ বলেন, উদ্যোগটি ঐতিহাসিক হলেও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বন্দিদের আগ্রহ তুলনামূলক কম ছিল।
‘অনেক বন্দির ধারণা ছিল, যেকোনো সময় তারা জামিনে মুক্তি পেতে পারেন। যে কারণে তারা নিবন্ধন করেননি। এছাড়া, দীর্ঘ দিন ধরে বন্দি অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই,’ বলেন এই কর্মকর্তা।
কারা কর্মকর্তারা জানান, বন্দিদের একটি বড় অংশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর নিষিদ্ধ ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের অনেকেই ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে তেমন আগ্রহ দেখাননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জান্নাত-উল-ফারহাদ বলেন, তিনি এ ব্যাপারে অবগত নন।