বাঙালির ফুটবলপ্রীতি: বিভ্রম নাকি বাস্তবতা

বাঙালির ফুটবলপ্রীতি কি যুক্তিসঙ্গত? ফুটবল নিয়ে যেকোনো জাতির চেয়ে তাদের যে প্রেম ও প্রণয়, তার মানদণ্ড কী? নাকি এখানেও রয়েছে অসম প্রেম, অজস্র প্রশ্নের তীর। বিশ্বকাপ পেয়েছে আর্জেন্টিনা, আর আমরা আর্জেন্টাইনদের চেয়েও অধিক আনন্দে মেতে উঠেছি। যেমনটা হয় ব্রাজিল জিতলেও। এটা কি বাঙালির সেই প্রবাদের খাসলত যে, ‘যার বিয়ে তার খোঁজ নেই, পাড়া-পড়শির ঘুম নেই’, নাকি অন্যকিছু।
১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন

গ্রামবাসীর বিজয় উৎসব

উঠানের মাঝে পোঁতা হয়েছে বাঁশ। তাতে উড়ছে জাতীয় পতাকা। বাঁশকে কেন্দ্র করে উঠানের চারপাশ সাজানো হয়েছে কাগজের জাতীয় পতাকা ও রঙিন কাগজে।  বৈঠকখানা নামে পরিচিত এই উঠানে সচরাচর গ্রামের সালিশ, আচার-বিচার অনুষ্ঠিত হলেও এই দিনটিতে পুরোই ব্যতিক্রম।
১৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

বিশ্বগণমাধ্যমে একাত্তরের ডিসেম্বর

একাত্তরে আমাদের যুদ্ধ ৯ মাস ধরে হলেও পূর্ব রণাঙ্গনে বাংলাদেশের যোদ্ধাদের সঙ্গে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ হয় মাত্র ১৩ দিন। ৩ ডিসেম্বর শুরু হয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন দিয়ে। যুদ্ধ যখন চলছিল তখন উপমহাদেশে উপস্থিত বিদেশি সাংবাদিকরা ব্যস্ত ছিলেন পুঙ্খানুপুঙ্খ সংবাদ সংগ্রহে। তাদের পরিবেশিত সংবাদে ফুটে উঠেছে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়।
১৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতা প্রসঙ্গে অসামান্য এক অন্বেষণ  

পৃথিবীর ইতিহাসে নীরবে ঘটে যায় মর্মন্তুদ এক অধ্যায় দেশভাগ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিংশ শতাব্দীতে যুদ্ধবিহীন এরকম ঘটনা কল্পনা করা দুরূহ হলেও, বাস্তব হয় তারও অধিক কিছু। বাস্তুচ্যুত হয় লাখ-লাখ মানুষ। কোনো ঘোষণা ছাড়াই, কোনোপ্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই ভিটেছাড়া-স্বজনহারা হয়ে পড়ে অগণন হিন্দু ও মুসলমান। যুদ্ধ ছাড়াই দানবীয় এক গণহত্যা দেখেও চুপকরে থাকে সদ্য স্বাধীন দুটি দেশ এমনকি বিশ্ব বিবেকও। ভারত ও পাকিস্তানের তড়িঘড়ি স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ ‘হঠকারিতা’র শিকার হন বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ড, যা তদানীন্তন সময়ে পূর্ব পাকিস্তান নামে যুক্ত হয় পাকিস্তানের সঙ্গে। ‘হঠকারিতা’র কথা বলা হচ্ছে এই কারণে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো যুতসই কারণ নেই। ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতিগত ভাবে তো নয়ই, ভৌগলিক ভাবেও নয়। এমনকি রাষ্ট্র বিজ্ঞানের কোনো সংজ্ঞাতেও আজোবধি এরকম কোনো দেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে, না তত্ত্বী, না ব্যবহারিক কোনভাবেই এরকম রাষ্ট্রের বাস্তবতা কোনোকালেই ছিল না।
১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

বিজয়ের ৫১ বছরেও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পাননি তারা

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫১ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পাইনি। কেউ আমাদের খবরও রাখেনি। পরিবার পরিজন নিয়ে অর্থাভাবে দিনাতিপাত করছি। শত বছর বয়সেও সরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি।
১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

অপরিণত বয়সের পরিণত গেরিলা

লক্ষ্যবস্তুতে গ্রেনেড ছুঁড়ছেন আবদুল খালেক, মাঝে রাইফেল তাক করে আছেন আবদুল মজিদ, তার বাঁয়ে একই কায়দায় মজিবর রহমান। ১৯৭২ সালের ৩ জানুয়ারি দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত এই একটি ছবিই যেন হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের গোটা রণাঙ্গনের প্রতিকৃতি। 
১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন

অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় শেষে নতুন সূর্য উঠেছিল আজ

সে দিনের শুরুটা ছিল ভয়াবহ রাতের শেষে জ্বলে ওঠা সূর্যের মতো স্নিগ্ধ, সূর্যের আলো যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় শেষে নতুন দিনের আশা নিয়ে এসেছিল।
১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

শামসুল আলম বীর উত্তম: শত প্রতিকূলতাও যাকে থামাতে পারেনি

মাতৃভূমির জন্য তার ত্যাগ অবিস্মরণীয়। একজন মানুষ মাতৃভূমির জন্য কতটা ত্যাগ করতে বা বীরত্ব দেখাতে পারেন তার উদাহরণ শামসুল আলম বীর উত্তম। তাকে হাজারো নির্যাতন করেও আটকাতে পারেনি মুক্তিযুদ্ধে যোগদান থেকে। মৃত্যুভয় তার মনে কখনো ভয় জাগাতে পারেনি।
১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন

বিজয় দিবস ও আমাদের অপারগতা

পৃথিবীর প্রায় সব স্বাধীন দেশেরই আছে স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু বিজয় দিবস নামে বিশেষ বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত এবং বিপুল গৌরবমণ্ডিত দিন সব জাতির ইতিহাসে নেই; সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে স্বাধীনতা ঘোষণার পর সফলভাবে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জনও সব জাতিকে করতে হয়নি। বাঙালি জাতি সেই অনন্য সাধারণ কাজটি করেছে বলেই তাদের কাছে বিজয় দিবসের তাৎপর্য ও ব্যঞ্জনা অপরিসীম।
১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন

নজরুল সংগীত বৈভব : অন্বেষা ও বীক্ষা

কাজী নজরুল ইসলামের প্রধান পরিচয় কী? কবি না গীতিকার? যদিও এসব পরিচয়ের বাইরে তিনি কথাশিল্পী-নাট্যকার-প্রাবন্ধিক, সুরকার-শিল্পী, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ছিলেন। কিন্তু সংবাদজগতে কিংবা রাজনৈতিকভুবনে তার অবদান কালে কালে ঢাকা পড়েছে কবিতার প্রভায়। আর, সরলচিন্তার আড়ালে দাঁড়িয়ে যদি পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলে ঠিকই অনুধাবন করা যাবে- পাঠকমহলে কবি হিসেবে তার স্বীকৃতি থাকলেও সাধারণের কাছে তিনি সত্যিকারভাবেই বেঁচে রয়েছেন সংগীত স্রষ্টা পরিচয়ে।
১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন

১৫ নভেম্বর থেকেই শুরু হয়েছিল পরিকল্পিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড

সেদিন ছিল সোমবার। আগের ২ দিন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আমার স্বামী হাসপাতালে যাননি। তাই সেদিন তাড়াতাড়িই বের হওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। কারফিউ থাকায় এবং অ্যাপ্রন ফেলে আসায় হাসপাতালে ফোন করে তিনি অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে বললেন। এরপর বাসা থেকে যখন নিচে নামলেন তখনই গেটের কাছেই আলবদর সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে ফেললো।’
১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

‘এতো লাশ দেখে আমি চিৎকার করতে থাকি’

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে তাদের এদেশীয় সহযোগী আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। এর মধ্যে ঢাকার রায়েরবাজারে বুদ্ধিজীবীদের গণহত্যা অন্যতম। সে দিনের ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন রবিউল আলম।
১৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

হৃদয় নাড়ানো বিচিত্র এক আখ্যান

উনিশ বছরের তরুণ মণিশংকর মুখোপাধ্যায় 'বিভূতি'-দার হাত ধরে এসেছেন হাইকোর্টে। পিতৃহীন মণিশংকরের চাকরি হলো 'সায়েবের বাবু' অর্থাৎ চেম্বার ক্লার্ক হিসেবে। কলকাতা হাইকোর্টের সর্বশেষ ইংরেজ ব্যারিস্টার নোয়েল ফ্রেডরিখ বারওয়েলের সহকারি হলেন তিনি। বারওয়েল বনেদি বংশের সন্তান, লর্ড ক্লাইভের আমল থেকেই নানা পেশায় নানা সময়ে যুক্ত ছিল তার পূর্বপুরুষ। ওল্ড পোস্ট অফিস রোডে ছিল বারওয়েলের টেম্পল চেম্বার। সেই পুরনো কক্ষে বসেই তরুণ মণিশংকর শুনতেন মক্কেলদের জীবনের বিচিত্র ঘটনা। আবার, বারওয়েল সাহেব নিজেও স্মৃতির অর্গল খুলে বলে যেতেন নানা কাহিনী। মণিশংকর মুখোপাধ্যায় নামটাকে ছেঁটে তিনি তাকে ডাকতেন 'শংকর।' 
১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

একাত্তরের গণহত্যার দালিলিক প্রমাণ

বিশ্বে গণহত্যার যত ইতিহাস রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও লোমহর্ষক গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে। যার নিপুণ কারিগর ছিলেন ইয়াহিয়া ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তারা শুধু সেদিন গণহত্যাই ঘটায়নি, সেটা জায়েজ করার নানা ফন্দি-ফিকির করেছে। এমনকি সেদিনের সেই গণহত্যা দেখে পাকিস্তান আর্মির বেলুচ সদস্যরা সেই হত্যাযজ্ঞে অংশ নিতে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে, অনীহা জানিয়েছে। কিন্তু তাদের কাছে মিথ্যার বেসাতি হাজির করে, ভুল তথ্য দিয়ে, অগ্রহণীয়-অমার্জনীয় গল্প ফেঁদে গণহত্যায় শামিল হতে বাধ্য করেছে। সেদিনের সেই গণহত্যার মর্মন্তুদ চিত্র এঁকেছেন রবার্ট পেইন তার ‘ম্যাসাকার’ গ্রন্থে। বাংলাদেশের গণহত্যার কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে পুরো বিশ্বের গণহত্যার প্রসঙ্গ এনেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হত্যা-ধ্বংস ও বিশ্ব রাজনীতির তথ্য উপাত্ত হাজির করেছেন।
১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

মানুষ ভালো নেই

মনে হয়, যেন এক আদিম যুগে ফিরে গেছে দেশ, যখন খাদ্যের সন্ধান ছাড়া মানুষের আর কিছু করার ছিল না। বাজারে গেলে, রাস্তায় বেরুলে মানুষের মুখের দিকে তাকানো যায় না। সেইসব মুখে গভীর বিষাদ ও বিপন্নতা, ক্লান্তি ও হতাশা, বেদনা ও যন্ত্রণা লেপ্টে আছে।
১১ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০৮ অপরাহ্ন

অপারেশন কিলো ফ্লাইট: মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী বিমান অপারেশন

অপারেশন কিলো ফ্লাইট। এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস। ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

একাত্তরের এই দিনে মাইজদী শহরে উড়েছিল মুক্তির পতাকা

আজ ৭ ডিসেম্বর, নোয়াখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা-জনতার প্রতিরোধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নোয়াখালী থেকে বিতাড়িত হলে শত্রুমুক্ত হয় নোয়াখালী।
৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

আজ লালমনিরহাট মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে উত্তরের সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট জেলা পাকিস্তানি বাহিনীর দখলমুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধের ৬ নং সেক্টর সদরদপ্তর ছিল লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী হাসরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়।
৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

‘গণহত্যার সেই দৃশ্যের কথা মনে পড়লে আজও গা শিউরে উঠে’

‘গণহত্যার সেই দৃশ্যের কথা মনে পড়লে আজও গা শিউরে উঠে, ভয় লাগে। সেদিন যেন ছিল লাশের মিছিল। চারদিকে লাশ—লাশের ওপরে লাশ। খালে লাশগুলো ২-৩ দিন পড়ে ছিল। যে কয়জন তখনো বাগানে ছিলেন, তাদেরকে ধরে এনে হত্যা করা হয়।’
৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

একাত্তরের এই দিনে শত্রুমুক্ত হয় আখাউড়া

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশের পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়াবাসীর জন্য স্মরণীয় দিন। এই দিনে এই এলাকার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হোন। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামাল এখানে জীবন উৎসর্গ করেন।
৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

বাঙালির ফুটবলপ্রীতি: বিভ্রম নাকি বাস্তবতা

বাঙালির ফুটবলপ্রীতি কি যুক্তিসঙ্গত? ফুটবল নিয়ে যেকোনো জাতির চেয়ে তাদের যে প্রেম ও প্রণয়, তার মানদণ্ড কী? নাকি এখানেও রয়েছে অসম প্রেম, অজস্র প্রশ্নের তীর। বিশ্বকাপ পেয়েছে আর্জেন্টিনা, আর আমরা আর্জেন্টাইনদের চেয়েও অধিক আনন্দে মেতে উঠেছি। যেমনটা হয় ব্রাজিল জিতলেও। এটা কি বাঙালির সেই প্রবাদের খাসলত যে, ‘যার বিয়ে তার খোঁজ নেই, পাড়া-পড়শির ঘুম নেই’, নাকি অন্যকিছু।
১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন

গ্রামবাসীর বিজয় উৎসব

উঠানের মাঝে পোঁতা হয়েছে বাঁশ। তাতে উড়ছে জাতীয় পতাকা। বাঁশকে কেন্দ্র করে উঠানের চারপাশ সাজানো হয়েছে কাগজের জাতীয় পতাকা ও রঙিন কাগজে।  বৈঠকখানা নামে পরিচিত এই উঠানে সচরাচর গ্রামের সালিশ, আচার-বিচার অনুষ্ঠিত হলেও এই দিনটিতে পুরোই ব্যতিক্রম।
১৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

বিশ্বগণমাধ্যমে একাত্তরের ডিসেম্বর

একাত্তরে আমাদের যুদ্ধ ৯ মাস ধরে হলেও পূর্ব রণাঙ্গনে বাংলাদেশের যোদ্ধাদের সঙ্গে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ হয় মাত্র ১৩ দিন। ৩ ডিসেম্বর শুরু হয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন দিয়ে। যুদ্ধ যখন চলছিল তখন উপমহাদেশে উপস্থিত বিদেশি সাংবাদিকরা ব্যস্ত ছিলেন পুঙ্খানুপুঙ্খ সংবাদ সংগ্রহে। তাদের পরিবেশিত সংবাদে ফুটে উঠেছে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়।
১৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতা প্রসঙ্গে অসামান্য এক অন্বেষণ  

পৃথিবীর ইতিহাসে নীরবে ঘটে যায় মর্মন্তুদ এক অধ্যায় দেশভাগ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিংশ শতাব্দীতে যুদ্ধবিহীন এরকম ঘটনা কল্পনা করা দুরূহ হলেও, বাস্তব হয় তারও অধিক কিছু। বাস্তুচ্যুত হয় লাখ-লাখ মানুষ। কোনো ঘোষণা ছাড়াই, কোনোপ্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই ভিটেছাড়া-স্বজনহারা হয়ে পড়ে অগণন হিন্দু ও মুসলমান। যুদ্ধ ছাড়াই দানবীয় এক গণহত্যা দেখেও চুপকরে থাকে সদ্য স্বাধীন দুটি দেশ এমনকি বিশ্ব বিবেকও। ভারত ও পাকিস্তানের তড়িঘড়ি স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ ‘হঠকারিতা’র শিকার হন বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ড, যা তদানীন্তন সময়ে পূর্ব পাকিস্তান নামে যুক্ত হয় পাকিস্তানের সঙ্গে। ‘হঠকারিতা’র কথা বলা হচ্ছে এই কারণে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো যুতসই কারণ নেই। ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতিগত ভাবে তো নয়ই, ভৌগলিক ভাবেও নয়। এমনকি রাষ্ট্র বিজ্ঞানের কোনো সংজ্ঞাতেও আজোবধি এরকম কোনো দেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে, না তত্ত্বী, না ব্যবহারিক কোনভাবেই এরকম রাষ্ট্রের বাস্তবতা কোনোকালেই ছিল না।
১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

বিজয়ের ৫১ বছরেও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পাননি তারা

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫১ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পাইনি। কেউ আমাদের খবরও রাখেনি। পরিবার পরিজন নিয়ে অর্থাভাবে দিনাতিপাত করছি। শত বছর বয়সেও সরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি।
১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

অপরিণত বয়সের পরিণত গেরিলা

লক্ষ্যবস্তুতে গ্রেনেড ছুঁড়ছেন আবদুল খালেক, মাঝে রাইফেল তাক করে আছেন আবদুল মজিদ, তার বাঁয়ে একই কায়দায় মজিবর রহমান। ১৯৭২ সালের ৩ জানুয়ারি দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত এই একটি ছবিই যেন হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের গোটা রণাঙ্গনের প্রতিকৃতি। 
১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন

অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় শেষে নতুন সূর্য উঠেছিল আজ

সে দিনের শুরুটা ছিল ভয়াবহ রাতের শেষে জ্বলে ওঠা সূর্যের মতো স্নিগ্ধ, সূর্যের আলো যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় শেষে নতুন দিনের আশা নিয়ে এসেছিল।
১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

শামসুল আলম বীর উত্তম: শত প্রতিকূলতাও যাকে থামাতে পারেনি

মাতৃভূমির জন্য তার ত্যাগ অবিস্মরণীয়। একজন মানুষ মাতৃভূমির জন্য কতটা ত্যাগ করতে বা বীরত্ব দেখাতে পারেন তার উদাহরণ শামসুল আলম বীর উত্তম। তাকে হাজারো নির্যাতন করেও আটকাতে পারেনি মুক্তিযুদ্ধে যোগদান থেকে। মৃত্যুভয় তার মনে কখনো ভয় জাগাতে পারেনি।
১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন

বিজয় দিবস ও আমাদের অপারগতা

পৃথিবীর প্রায় সব স্বাধীন দেশেরই আছে স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু বিজয় দিবস নামে বিশেষ বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত এবং বিপুল গৌরবমণ্ডিত দিন সব জাতির ইতিহাসে নেই; সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে স্বাধীনতা ঘোষণার পর সফলভাবে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জনও সব জাতিকে করতে হয়নি। বাঙালি জাতি সেই অনন্য সাধারণ কাজটি করেছে বলেই তাদের কাছে বিজয় দিবসের তাৎপর্য ও ব্যঞ্জনা অপরিসীম।
১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন

নজরুল সংগীত বৈভব : অন্বেষা ও বীক্ষা

কাজী নজরুল ইসলামের প্রধান পরিচয় কী? কবি না গীতিকার? যদিও এসব পরিচয়ের বাইরে তিনি কথাশিল্পী-নাট্যকার-প্রাবন্ধিক, সুরকার-শিল্পী, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ছিলেন। কিন্তু সংবাদজগতে কিংবা রাজনৈতিকভুবনে তার অবদান কালে কালে ঢাকা পড়েছে কবিতার প্রভায়। আর, সরলচিন্তার আড়ালে দাঁড়িয়ে যদি পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলে ঠিকই অনুধাবন করা যাবে- পাঠকমহলে কবি হিসেবে তার স্বীকৃতি থাকলেও সাধারণের কাছে তিনি সত্যিকারভাবেই বেঁচে রয়েছেন সংগীত স্রষ্টা পরিচয়ে।
১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন

১৫ নভেম্বর থেকেই শুরু হয়েছিল পরিকল্পিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড

সেদিন ছিল সোমবার। আগের ২ দিন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আমার স্বামী হাসপাতালে যাননি। তাই সেদিন তাড়াতাড়িই বের হওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। কারফিউ থাকায় এবং অ্যাপ্রন ফেলে আসায় হাসপাতালে ফোন করে তিনি অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে বললেন। এরপর বাসা থেকে যখন নিচে নামলেন তখনই গেটের কাছেই আলবদর সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে ফেললো।’
১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

‘এতো লাশ দেখে আমি চিৎকার করতে থাকি’

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে তাদের এদেশীয় সহযোগী আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। এর মধ্যে ঢাকার রায়েরবাজারে বুদ্ধিজীবীদের গণহত্যা অন্যতম। সে দিনের ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন রবিউল আলম।
১৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

হৃদয় নাড়ানো বিচিত্র এক আখ্যান

উনিশ বছরের তরুণ মণিশংকর মুখোপাধ্যায় 'বিভূতি'-দার হাত ধরে এসেছেন হাইকোর্টে। পিতৃহীন মণিশংকরের চাকরি হলো 'সায়েবের বাবু' অর্থাৎ চেম্বার ক্লার্ক হিসেবে। কলকাতা হাইকোর্টের সর্বশেষ ইংরেজ ব্যারিস্টার নোয়েল ফ্রেডরিখ বারওয়েলের সহকারি হলেন তিনি। বারওয়েল বনেদি বংশের সন্তান, লর্ড ক্লাইভের আমল থেকেই নানা পেশায় নানা সময়ে যুক্ত ছিল তার পূর্বপুরুষ। ওল্ড পোস্ট অফিস রোডে ছিল বারওয়েলের টেম্পল চেম্বার। সেই পুরনো কক্ষে বসেই তরুণ মণিশংকর শুনতেন মক্কেলদের জীবনের বিচিত্র ঘটনা। আবার, বারওয়েল সাহেব নিজেও স্মৃতির অর্গল খুলে বলে যেতেন নানা কাহিনী। মণিশংকর মুখোপাধ্যায় নামটাকে ছেঁটে তিনি তাকে ডাকতেন 'শংকর।' 
১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

একাত্তরের গণহত্যার দালিলিক প্রমাণ

বিশ্বে গণহত্যার যত ইতিহাস রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও লোমহর্ষক গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে। যার নিপুণ কারিগর ছিলেন ইয়াহিয়া ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তারা শুধু সেদিন গণহত্যাই ঘটায়নি, সেটা জায়েজ করার নানা ফন্দি-ফিকির করেছে। এমনকি সেদিনের সেই গণহত্যা দেখে পাকিস্তান আর্মির বেলুচ সদস্যরা সেই হত্যাযজ্ঞে অংশ নিতে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে, অনীহা জানিয়েছে। কিন্তু তাদের কাছে মিথ্যার বেসাতি হাজির করে, ভুল তথ্য দিয়ে, অগ্রহণীয়-অমার্জনীয় গল্প ফেঁদে গণহত্যায় শামিল হতে বাধ্য করেছে। সেদিনের সেই গণহত্যার মর্মন্তুদ চিত্র এঁকেছেন রবার্ট পেইন তার ‘ম্যাসাকার’ গ্রন্থে। বাংলাদেশের গণহত্যার কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে পুরো বিশ্বের গণহত্যার প্রসঙ্গ এনেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হত্যা-ধ্বংস ও বিশ্ব রাজনীতির তথ্য উপাত্ত হাজির করেছেন।
১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

মানুষ ভালো নেই

মনে হয়, যেন এক আদিম যুগে ফিরে গেছে দেশ, যখন খাদ্যের সন্ধান ছাড়া মানুষের আর কিছু করার ছিল না। বাজারে গেলে, রাস্তায় বেরুলে মানুষের মুখের দিকে তাকানো যায় না। সেইসব মুখে গভীর বিষাদ ও বিপন্নতা, ক্লান্তি ও হতাশা, বেদনা ও যন্ত্রণা লেপ্টে আছে।
১১ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০৮ অপরাহ্ন

অপারেশন কিলো ফ্লাইট: মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী বিমান অপারেশন

অপারেশন কিলো ফ্লাইট। এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস। ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

একাত্তরের এই দিনে মাইজদী শহরে উড়েছিল মুক্তির পতাকা

আজ ৭ ডিসেম্বর, নোয়াখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা-জনতার প্রতিরোধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নোয়াখালী থেকে বিতাড়িত হলে শত্রুমুক্ত হয় নোয়াখালী।
৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

আজ লালমনিরহাট মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে উত্তরের সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট জেলা পাকিস্তানি বাহিনীর দখলমুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধের ৬ নং সেক্টর সদরদপ্তর ছিল লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী হাসরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়।
৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

‘গণহত্যার সেই দৃশ্যের কথা মনে পড়লে আজও গা শিউরে উঠে’

‘গণহত্যার সেই দৃশ্যের কথা মনে পড়লে আজও গা শিউরে উঠে, ভয় লাগে। সেদিন যেন ছিল লাশের মিছিল। চারদিকে লাশ—লাশের ওপরে লাশ। খালে লাশগুলো ২-৩ দিন পড়ে ছিল। যে কয়জন তখনো বাগানে ছিলেন, তাদেরকে ধরে এনে হত্যা করা হয়।’
৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

একাত্তরের এই দিনে শত্রুমুক্ত হয় আখাউড়া

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশের পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়াবাসীর জন্য স্মরণীয় দিন। এই দিনে এই এলাকার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হোন। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামাল এখানে জীবন উৎসর্গ করেন।
৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন