আহমদ ছফার স্বপ্নের সমাজ এখনো প্রতিষ্ঠা হয়নি: সলিমুল্লাহ খান
'আহমদ ছফা আপন প্রতিভা ও সৃষ্টির কারণে তার যুগের সবাইকেই ছাড়িয়ে গেছেন। আজকের তরুণ সমাজ এই সাহিত্যসাধকের লেখা নতুন করে পড়ছে। আহমদ ছফা বলতেন, সৎসাহস হচ্ছে অনেক দূরবর্তী সম্ভাবনা দেখতে পারার ক্ষমতা। বাংলাদেশের সেই অমিত সম্ভাবনা তিনি দেখতে পেয়েছিলেন।'
দ্য ডেইলি স্টারকে কথাগুলো বলেন লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আহমদ ছফার কবরে নামফলক স্থাপন উপলক্ষে সেখানে যান তিনি।
সলিমুল্লাহ খান মনে করেন, আহমদ ছফা যে সমাজের স্বপ্ন দেখতেন, সে সমাজ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, 'তিনি যা কল্পনা করেছিলেন, তিনি যে সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটি এখনো ভবিষ্যতের গর্ভে আছে। সেই অর্থে তাকে জনসাধারণের কবি বলছি, অর্থাৎ জনসাধারণের মনের যে আকাঙ্ক্ষা, সাম্যের আকাঙ্ক্ষা, সেটা তার মধ্যে আছে।'
তিনি আরও বলেন, আহমদ ছফা বাংলাদেশের চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অনেক কারণে অনন্য। একে তো তিনি ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান সাহিত্যসাধক। তার প্রতিটি রচনাই অনন্য, অপূর্ব, তুলনারহিত। তিনি ছিলেন অসাধারণ সৎসাহসী। স্বাধীনতার পর জন্ম নেওয়া বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে তার সৎসাহসের মতন সাহস খুব কম লেখকের মধ্যেই দেখা গেছে।
'শাসকদের হাতে তিনি জীবদ্দশায় যেমন, মৃত্যুর পরও তেমন নির্যাতিত ও অবহেলিত হয়েছিলেন। তাকে যেমন কোনো বড় জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়নি, তেমনি ২০০১ সালের মধ্যভাগে মৃত্যুর পর বুদ্ধিজীবীদের জন্য নির্ধারিত কবরস্থানে তাকে সমাহিত করতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।'
আহমদ ছফার কবরের নামফলক নতুন করে স্থাপন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। আগের নামফলকের লেখা মুছে যাওয়ায় প্রয়াত এই লেখকের পরিবার ও সমর্থকদের অনুরোধে এ উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।
কবরের ফলকের অন্য পাশে রয়েছে আহমদ ছফার 'কবি ও সম্রাট' কবিতায় মীর ত্বকী মীরের নামে তিনি যে আত্মপরিচয় লিখেছিলেন, সেই অংশ—'আমি তো দেহাতি লোক সর্বক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকি। এমন তৌফিক নেই অক্ষমতা চাকি। বুলিতে মাটির গন্ধ, লেবাসে মিসকিন, ভাঙাচোরা মানুষের সঙ্গে কাটে দিন।'
এ ছাড়া কবরের ফলকে আহমদ ছফার পারিবারিক তথ্য ও তার অবদানের তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।
আহমদ ছফার কবরে নামফলক স্থাপন উপলক্ষে রোববার বিকেলে সেখানে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ ইজাজ। তিনি জানান, উত্তর সিটি করপোরেশন দ্রুততম সময়ে আহমদ ছফার কবরটিকে পার্শ্ববর্তী শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সরিয়ে নেবে। আগামী এক মাসের মধ্যেই তারা এটি করবেন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজেকা ফেরদৌস, আহমদ ছফার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আব্দুল হক, আহমদ ছফার পালক পুত্র সুশীল সিংহ, 'আহমদ ছফা রচনাবলি'র সম্পাদক নূরুল আনোয়ার প্রমুখ।
পরে তারা আহমদ ছফার কবর জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের কবরের পাশে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন।
নূরুল আনোয়ার সম্পর্কে আহমদ ছফার ভাইয়ের ছেলে। তিনি অভিযোগ করেন, মৃত্যুর পরে আহমদ ছফাকে তার পরিবার মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করতে চেয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের বাধায় সেটা হয়নি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ ও সরকারের উচিত, আহমদ ছফাকে নতুন করে সম্মান দেখানো।