মঈদুল হাসান আজও যে দুঃখ বয়ে বেড়াচ্ছেন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

''প্রায় ৪৫ বছর আগে 'মূলধারা ৭১' বইটি প্রকাশ পায়। প্রতি বছর ৩ থেকে ৫ হাজার কপি বিক্রি হচ্ছে। গতানুগতিক ইতিহাসের মাঝে আমার এই বইটিকে পাঠক তার নিজের মতো করে গ্রহণ করেছে। পাঠকের এই আকুলতার চেয়ে বড় পুরষ্কার আর হয় না।''

এ বছর গবেষণায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসান। পুরস্কারের তালিকা ঘোষণার পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে এসব কথা বলেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসান একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক, কূটনীতিক  ও লেখক হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যে (তাজউদ্দীন আহমদ) মানুষটি নিজের জীবন বাজি রেখে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেছেন, আমরা তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারলাম না। তাকে মূলধারা ইতিহাসে রাষ্ট্র হাজির করেনি। শতবর্ষে এসেও তাজউদ্দীন আহমদ অবহেলায় থেকেছেন। এটা আমার জীবনের অত্যন্ত খারাপ লাগার বিষয়।

মঈদুল হাসানের লেখা বিখ্যাত বই 'মূলধারা '৭১' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি আকরগ্রন্থ হিসেবে সমাদৃত। এই বইয়ে তিনি যুদ্ধের রাজনৈতিক, সামরিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটকে নির্মোহভাবে তুলে ধরেছেন।

১৯৩৬ সালের ২৯ জুলাই বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন মঈদুল হাসান। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬০ সালে ছাত্র অবস্থায় দৈনিক ইত্তেফাকে সম্পাদকীয় লেখা শুরু করেন। এর মাধ্যমে তিনি পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গতিধারা পর্যবেক্ষণ করেন গভীরভাবে।

মঈদুল হাসানের উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধে কসবা, উপধারা একাত্তর মার্চ-এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর (এ কে খন্দকার এবং এস আর মীর্জাকে সাথে নিয়ে লেখা), শব্দের পদ্মফুল ইত্যাদি।

তার কীর্তির জন্য ২০২৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।