কেন চামড়া ওঠে, করণীয় কী
মানুষের শরীরের চামড়া ওঠা খুব সাধারণ সমস্যা। কিন্তু, শীত ঋতুতে এই সমস্যা যেন একটু বেশি বেড়ে যায়।
কেন চামড়া ওঠে এবং এ নিয়ে করণীয় সম্পর্কে জানিয়েছেন এম এইচ শমরিতা হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ন্যাশনাল স্কিন সেন্টারের চেয়ারম্যান ও চীফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরী।
চামড়া ওঠে কেন?
অধ্যাপক ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরী বলেন, 'শীত ঋতুতে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এ সময় ত্বক হয় শুষ্ক, নির্জীব ও মলিন। শুষ্কতার কারণে এ সময় ত্বকের চামড়া ওঠে।'
তিনি বলেন, 'এ ছাড়া গরম পানি ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান না করা, ত্বকের যত্ন না নেওয়া, অপরিষ্কার থাকা এবং বয়সজনিত কারণে ত্বকের চামড়া ওঠে।'
তবে সোরিয়াসিস, একজিমা, অ্যালার্জিজনিত সমস্যাসহ অনেকগুলো রোগ আছে, যার কারণে চামড়া ওঠে।
- শীতকালে চামড়া ওঠা সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায় সোরিয়াসিস রোগের কারণে। যাদের সোরিয়াসিস আছে, তাদের ত্বক ৪ দিন পরপর পরিবর্তন হয়। শীতকালে শুষ্কতা বেড়ে যাওয়ায় ত্বক অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে যায়, পায়ের চামড়া ফেটে রক্ত বের হয়। এ ছাড়া হাঁটু, কনুইতে সোরিয়াসিস বেশি হয়। চামড়া এমনভাবে উঠতে শুরু করে, যা থেকে পরবর্তীতে রক্তক্ষরণও হতে পারে।
- শুষ্ক ঋতুতে একজিমার প্রকোপ বেড়ে যায়। একজিমার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়, চুলকানি হয় ও চামড়া ওঠে। অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ, কাপড়ের ঘর্ষণ, শুষ্কতাসহ বিভিন্ন কারণে একজিমা নির্দিষ্ট জায়গায় হয়। যেমন: পায়ের তলা, পা, হাত ইত্যাদি।
- শিশুদের ডায়াপার ডার্মাটাইটিসের কারণেও চামড়া ওঠে, চুলকানি হয়। দীর্ঘসময় ভেজা ডায়াপার পরিয়ে রাখা, প্রস্রাব ও পায়খানা সংস্পর্শে থাকা, ডায়াপারের ঘর্ষণ ও সংক্রমণের কারণে প্রদাহ হয়।
- এ ছাড়া অ্যালার্জি ও ছত্রাক সংক্রমণের কারণে ত্বকের চামড়া ওঠে।
চামড়া উঠলে করণীয়
- নিয়মিত কুসুম গরম পানিতে গোসল করতে হবে।
- কম ক্ষারযুক্ত বা লিকুইড সাবান, লিকুইড ক্লিনজার ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত ক্ষার ও রাসায়নিকযুক্ত সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
- নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করতে হবে। গোসলের পরপর শরীর মুছে ত্বক ভেজা থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে ভালো করে।
- শুষ্কতার জন্য নারিকেল তেল, অলিভ ওয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।
- ঠোঁট ফেটে চামড়া উঠলে পেট্রোলিয়াম জেলি, ভ্যাসলিন, লিপ বাম ব্যবহার করতে হবে।
- শীতে পানি কম পান করার প্রবণতার কারণে শরীরে পানিশূণ্যতা তৈরি হয় এবং ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় ও চামড়া ওঠে। সেজন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার পানি পান করতে হবে।
- ঠান্ডা আবহাওয়া ও বাতাস থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতে আরামদায়ক গরম কাপড় পড়তে হবে। ঠান্ডা বাতাসে এক্সপোজার এড়াতে হাত-পা ঢেকে রাখতে হবে। ফুল হাতা জামা, প্যান্ট ও মোজা ব্যবহার করতে হবে।
- খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি করা যাবে না, কারণ চর্মরোগ থাকলে ধুলাবালির সংস্পর্শে তা বেড়ে যেতে পারে। ঘরে থাকলে মোজা পরে হাঁটতে হবে, বাইরে গেলে জুতার সঙ্গে অবশ্যই মোজা ব্যবহার করতে হবে।
- বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ ধুতে হবে, যাতে কোনো ধরণের রোগজীবাণু, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে না পারে। ব্যবহৃত কাপড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অ্যালার্জি হয় এমন খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- ত্বক ভালো রাখতে ভিটামিন সমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
- সোরিয়াসিস, একজিমা, ছত্রাক সংক্রমণের কারণে চামড়া উঠলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও মলম ব্যবহার করতে হবে।
- ত্বকে অতিরিক্ত চামড়া উঠলে, ত্বক ফেটে রক্ত বের হলে, অসহ্য চুলকানি হলে, পুঁজ বা প্রদাহ হলে, বারবার চামড়া উঠলে এবং ভালো না হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।


