পিম্পল প্যাচ: ত্বকের যত্ন যখন ফ্যাশন ট্রেন্ড

জাবিন তাজরীন নাশিতা

মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ভালো জিনের কারণে কৈশোরের বেশিরভাগ সময় আমার ত্বক ছিল বেশ পরিষ্কার। ব্রণ নিয়ে ঘরোয়া টোটকা বা ডার্মাটোলজিস্টের কাছে ছোটাছুটি—এসবের ভেতর দিয়ে যেতে হয়নি কখনো।

তবে সেই সৌভাগ্য বেশি দিন টেকেনি। বড় হওয়ার পর জীবনযাপনে কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে হঠাৎ করেই ব্রণের সমস্যায় পড়ি। আর সেটা একদম স্বাভাবিকভাবে নিতে পারতাম না। মুখে ব্রণ উঠলেই খুঁটতে ইচ্ছা করত। ছোট্ট একটা ব্রণ খুঁটতে খুঁটতে এমন অবস্থায় নিয়ে যেতাম, পরে সেখানে দাগ থেকে যেত।

তখনই ‘পিম্পল প্যাচ’ নামের জিনিসটার সঙ্গে পরিচয় হয়। মনে হয়েছিল, এটা যেন ঠিক আমার মতো মানুষের জন্যই বানানো।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিয়মিত পিম্পল প্যাচ ব্যবহার শুরু করি। অনেক সময় সারাদিন মুখে লাগিয়েই রাখতাম। বন্ধুরা প্রায়ই বলত, ‘এগুলো খুলে ফেল তো!’ কারণ সাধারণত স্বচ্ছ হাইড্রোকলয়েড প্যাচ রাতে ব্যবহার করা হয়, ব্রণের ফোলা ভাব কমানোর জন্য। কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই এগুলো সারাদিন লাগিয়ে রাখতাম। কারণ আমার সমস্যা শুধু ব্রণের চেহারা নিয়ে ছিল না, বরং সেটা খুঁটে ফেলার অভ্যাস নিয়েও ছিল।

পরে দেখলাম বাজারে নানান রঙ আর ডিজাইনের পিম্পল প্যাচ চলে এসেছে। তখন তো আমাকেও কিনতেই হলো। উজ্জ্বল গোলাপি তারার মতো প্যাচ লাগিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াতাম। কেউ ভাবত না যে ভুল করে লাগানো আছে।

Pimple Patch
ছবি: অর্কিড চাকমা

এরপর আরও মজার মজার ডিজাইন দেখতে শুরু করি—বিড়ালের থাবা, কার্টুন মুখ, এমনকি হ্যালো কিটি বা কুরোমির মতো চরিত্রও ছিল। মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করত এগুলো কোথা থেকে কিনেছি। পরে আমার বন্ধুরাও নিজেদের পছন্দমতো পিম্পল প্যাচ কিনতে শুরু করল—কারও পছন্দ গোলাপি হার্ট, কারও নীল তারা, আবার কারও হলোগ্রাফিক প্রজাপতি।

এখন ঘরের বাইরে পিম্পল প্যাচ ব্যবহার করাটা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ছোট্ট একটা স্টিকার দিয়ে ব্রণ ঢেকে রাখা ধীরে ধীরে ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠেছে। মজার ব্যাপার হলো, এই ধারণা একেবারে নতুন না। একটু খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, রোমান সাম্রাজ্যের সময়েও মুখের দাগ ঢাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাচ ব্যবহার করা হতো। ১৭শ শতকের ইউরোপে তো এটি বেশ জনপ্রিয় ট্রেন্ড ছিল। কাপড়, কাগজ বা চামড়া দিয়ে নানা আকারের প্যাচ বানিয়ে মুখে লাগানো হতো। এগুলোর নাম ছিল ‘মুশ’। ফরাসি এই শব্দের অর্থ ‘মাছি’। ফর্সা ত্বকের ওপর ছোট কালো প্যাচ দেখতে মাছির মতো লাগত বলেই এমন নাম।

তবে এখনকার পিম্পল প্যাচ শুধু সাজের জন্য না, কাজও করে। বেশিরভাগ প্যাচ তৈরি হয় হাইড্রোকলয়েড নামে এক ধরনের উপাদান দিয়ে, যা ত্বকের আর্দ্রতা শোষণ করে ব্রণ শুকাতে সাহায্য করে। কিছু প্যাচে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডের মতো উপাদানও থাকে, যা ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।

Pimple Patch
ছবি: অর্কিড চাকমা

সম্প্রতি আরেকটা ট্রেন্ডও দেখা যাচ্ছে। অনেকে বড় হাইড্রোকলয়েড রোল কিনে নিজের প্রয়োজনমতো কেটে ব্যবহার করছেন। এতে খরচও কম পড়ে।

তবে পিম্পল প্যাচ সবার ত্বকে একইভাবে কাজ করে না। কেউ বলেন স্বচ্ছ মেডিকেটেড প্যাচ তাদের জন্য খুব ভালো কাজ করেছে, কিন্তু রঙিন প্যাচে তেমন উপকার পাননি। আবার কারও অভিজ্ঞতা পুরো উল্টো। তবে আমার কাছে, কোনো কিছু যদি মুখে স্থায়ী দাগ পড়া আটকাতে পারে, সেটাই যথেষ্ট। আর সুন্দর সুন্দর রঙ আর ডিজাইন তো বাড়তি আনন্দ।

তথ্যসূত্র:
ডুইং হিস্ট্রি ইন পাবলিক (২০২৫)। ‘টার্নিং বচেস ইনটু বিউটি’: দ্য আর্লি মডার্ন অরিজিনস অব দ্য পিম্পল প্যাচ।