দেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সে লক্ষ্যেই বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

আজ রোববার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর এক জনসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের জনগণ বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন, সেটা অতীতের স্বৈরাচার সরকারের অব্যবস্থাপনার  কারণে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সংসদের আগামী অধিবেশনে ১০ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। তবে এই সুযোগে কিছু লোক রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। কারণ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হলেও বিশৃঙ্খলাকারীরা উপকৃত হয়। তাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে বিএনপি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম খাল খনন কর্মসূচি। এই খাল খননের কারণে কৃষকেরা পানির সুবিধা পাচ্ছেন, মাছ চাষ করা যাচ্ছে। নারীদের শিক্ষাব্যবস্থায় সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে অনার্স পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে। মেয়েরা যাতে স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়তে পারেন, পাশাপাশি তাদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাছাড়া ১ কোটি ২০ লাখ শিশুকে বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার যেভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছে এবারো করবে। তবে সবাইকে ধৈর্য ধরে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকার লুটপাট করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে দেশটাকে ধ্বংস করে গেছে। সে দেশ পুনর্গঠনের কাজ করে যাচ্ছে এই সরকার। এ দেশের মালিক জনগণ, কাজেই এ দেশকে সমৃদ্ধ করতে হলে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দেশের স্বার্থে কাজ করে যাবে। দেশের ক্ষতি হয়, অকল্যাণ হয় এমন কোনো কাজ বিএনপি করবে না। আমরা দেশের মানুষের শান্তি চাই, কল্যাণ চাই। দেশকে সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু), কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীনসহ উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও দলীয় নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর কটিয়াদীতে কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা আছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, অনুদান প্রদানসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করার কথা রয়েছে।