উ. কোরিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনার প্রস্তাব দ. কোরিয়ার

স্টার অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে চলমান কোরিয়া যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার বিস্তার ঠেকানোর কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এএফপি জানিয়েছে, কোরিয়া উপদ্বীপে ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা যুদ্ধের অবসান হয়েছিল যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে, কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে দুই কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে রয়েছে।

জাপানের ১৯১০-১৯৪৫ সালের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে লি বলেন, ‘একে অপরকে হুমকি দেওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষ হিসেবে আমাদের আলোচনা শুরু করা উচিত।’

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার সম্প্রসারণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করা সম্ভব হতে পারে।

উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার স্থবিরতার মধ্যেই লির এই প্রস্তাব এলো। ২০১৯ সালে হ্যানয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর পিয়ংইয়ং বারবার নিজেদের ‘অপরিবর্তনীয়’ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে আসছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনামূলক উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট লি ২০২৫ সালের জুনে ক্ষমতায় আসার পর তার পূর্বসূরির কঠোর নীতি থেকে সরে এসে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পুন একত্রিকরণ মন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে চাপ দেওয়ার পরিবর্তে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতার বিস্তার বন্ধ করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সিউল।

তবে লির বারবার আলোচনার প্রস্তাবে এখনো সাড়া দেয়নি উত্তর কোরিয়া। বরং দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে।

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে সেনা ও গোলাবারুদ সরবরাহের বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে অর্থ, খাদ্য, জ্বালানি ও সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের রাশিয়া সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে রাশিয়াকে আরও অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ারও নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। আগামী সোমবার থেকে ১১ দিনের ওই মহড়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া সতর্ক করে বলেছে, এর জবাবে তারা আরও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেবে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া। দেশটি গত দুই সপ্তাহে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। এর আগে জাপান ‘জরুরি পরিস্থিতি ও সংকটের অনুভূতি’ নিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন রেখেছে। উত্তর কোরিয়ার সামরিক হুমকি মোকাবিলায় তাদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে সিউল।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের ফলে কোরীয় উপদ্বীপে সম্ভাব্য হুমকির ধরন বদলে গেছে।’

১১ দিনের যৌথ সামরিক মহড়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তারা সেখানে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা উত্তর কোরিয়ায় নিয়ে এসেছে। আমাদের প্রশিক্ষণে সেই হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।’