স্কুলে এআই ব্যবহার কেন নিষিদ্ধ করছে নরওয়ে?
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহারে প্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে নরওয়ে।
একইসঙ্গে বড় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার সীমিত করা হচ্ছে, যাতে শেখার প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলে ধারাবাহিক অবনতির প্রেক্ষাপটে নরওয়ে সরকার ২০২৪ সালে স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিক্ষকদের আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরে বলেন, এআই ব্যবহারের ফলে ছোট শিশুদের শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ‘স্কুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের সন্তানরা যেন পড়তে, লিখতে এবং গণিত শিখতে পারে।’
তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, অর্থাৎ আগস্টের শেষ দিক থেকে নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হবে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ নিয়ম হিসেবে প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত (৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী) শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার না করার কথা। নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের (১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী) শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সতর্কতার সঙ্গে এআই টুল ব্যবহার করতে পারবে।
আর উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে (১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী) শিক্ষার্থীদের উপযুক্তভাবে এআই ব্যবহারের দক্ষতা শেখানো হবে, যাতে তারা উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
নরওয়ে ১৯৯০-এর দশক থেকে শ্রেণিকক্ষে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করে। পরে ২০১০ সালের পর আইপ্যাড চালুর মাধ্যমে ট্যাবলেটের ব্যবহার বাড়ে, ফলে বই ও হাতের লেখার ওপর নির্ভরতা কমে যায়।
তবে শুক্রবার প্রকাশিত এক সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে সরকার জানিয়েছে, শ্রেণিকক্ষে আরও বেশি বই ব্যবহারের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে তারা নতুন আইনের প্রস্তাব করবে। এর মাধ্যমে ট্যাবলেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার প্রবণতা থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গত এপ্রিলে নরওয়ে সরকার ঘোষণা দেয়, ১৬ বছর বয়সের আগে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমাতে অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের অনুসৃত নীতির ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।