‘যুদ্ধের আবহে যুদ্ধবিরতি ইরানের নীতিতে নেই’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপের মধ্যে ‘যুদ্ধের আবহ’ বজায় রেখে কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিমের বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, এমন যুদ্ধবিরতি কেবল প্রতিপক্ষকে নতুন করে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দেয়।
এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, কিছু মধ্যস্থতাকারী চলমান সংঘাতে ৪৫ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করছেন। এই সময়ের মধ্যে সংঘাতের সমাধান নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে বাস্তবে এই সময়েও যুদ্ধের পরিস্থিতি পুরোপুরি শেষ হবে না।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না থাকলেও, তাসনিমের বিশ্লেষণে বলা হয়, অ্যাক্সিওসকে অনেক সময় ইরান-সংক্রান্ত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে মনস্তাত্ত্বিক কার্যক্রমের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত আবারও কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার পথ খুঁজছেন। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো আক্রমণের জবাবে দেশটির শক্ত প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে তিনি অবগত। এ ধরনের খবর সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও ছড়ানো হতে পারে, যদিও এটি নিশ্চিত নয়।
তারা বলেন, ইরান আগেও স্পষ্ট করেছে যে ‘যুদ্ধের আবহ’ রেখে কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজি নয়। সম্প্রতি ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষণে বলা হয়, যুদ্ধের চাপ ও বিভ্রান্তির মধ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ এমন যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে চায়।
ইরানের শর্ত পূরণ না করে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলে তা প্রতিপক্ষকে নতুন সুযোগ দেবে। একইসঙ্গে এই সময়েও তারা ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে পারবে, যা সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী ‘যুদ্ধের আবহ বজায় রেখে সাময়িক যুদ্ধবিরতি’ বর্তমান সংঘাতের সমাধানে কোনো গ্রহণযোগ্য বিকল্প নয়।
ইরান বলেছে, যুদ্ধের অবসান তখনই সম্ভব, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না করার স্পষ্ট নিশ্চয়তা থাকবে। এর পাশাপাশি আরও কিছু শর্ত রয়েছে, যেগুলো আলোচনার বাইরে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।