ইরানে নিখোঁজ পাইলটকে যেভাবে উদ্ধার করল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সাহসী ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ মিশনগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
যেভাবে সংকটের শুরু
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, গত শুক্রবার ইরানের ভেতরে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। বিমানটিতে দুজন ক্রু ছিলেন, একজন পাইলট ও একজন অস্ত্র কর্মকর্তা (ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার)। তারা ইজেক্ট করে আলাদা হয়ে পড়েন।
প্রথম ক্রু সদস্যকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও দ্বিতীয়জন নিখোঁজ থাকেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি করে।
নজরদারি ও গোপন পরিকল্পনা
নিউহয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী নিখোঁজ কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্ত করতে টানা নজরদারি চালায়। তিনি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত ইরানি বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন বলে জানা গেছে।
একইসঙ্গে সিআইএ বিভ্রান্তিমূলক ক্যাম্পেইন চালায়, ইরানের ভেতরে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, ওই কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ইরানি বাহিনীর অনুসন্ধান প্রচেষ্টা বিভ্রান্ত হয় বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
উদ্ধার অভিযানের ধরণ
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, উদ্ধার অভিযানটি মূলত রাতের অন্ধকারে পরিচালিত হয়। এতে অংশ নেয় মার্কিন বিশেষ বাহিনী, হেলিকপ্টার এবং সি-১৩০ পরিবহন বিমান।
হেলিকপ্টারগুলোকে পাহাড়ি ও প্রতিকূল ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে নিচু উচ্চতায় উড়তে হয়, অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, অন্তত দুটি মার্কিন হেলিকপ্টার গুলিবিদ্ধ হয় এবং কিছু সেনা আহত হন।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) বাহিনীও ওই কর্মকর্তাকে খুঁজতে অভিযান চালাচ্ছিল, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
বড় ঝুঁকি ও পাল্টা সংঘর্ষ
উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীকে সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে হয়। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র আকাশে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল।
একই দিনে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানও ইরানি হামলার শিকার হয়, যদিও পাইলট নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন।
সফল উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা
রয়টার্স জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ ওই কর্মকর্তা (কর্নেল) সফলভাবে উদ্ধার হয়েছেন। তবে তিনি আহত হলেও বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং তাকে ইরানের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রেক্ষাপট: চলমান যুদ্ধ
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই যুদ্ধের মধ্যেই প্রথমবারের মতো শত্রু ভূখণ্ডে মার্কিন ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে সরাসরি অভিযান চালাতে হয়।
ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করতে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক স্তরের কৌশল, নজরদারি, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং সরাসরি সামরিক অভিযান ব্যবহার করেছে। তীব্র ঝুঁকি ও সংঘর্ষের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত অভিযান সফল হয়, যা চলমান সংঘাতে একটি বড় কৌশলগত বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

