আর্টেমিস–২ মিশন: চাঁদের পথে মহাকাশচারীদের সঙ্গে পুতুল কেন
‘আমি রকেট ভালোবাসি, নাসা ভালোবাসি, সৌরজগৎ ভালোবাসি, মহাকাশ নিয়ে পড়তে ভালোবাসি’—ছোট্ট শিশু লুকাস ইয়েই’র এসব ভালোবাসা একটি ছোট্ট পুতুলের রূপ নিয়ে চাঁদের পথে যাত্রা করেছে আর্টিমিস-২ এ চড়ে।
নরম তুলতুলে হাসিমুখের ছোট্ট পুতুলটির নাম ‘রাইজ’, নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্র মিশনের মাসকট। মাথায় তারাখচিত ক্যাপ আর মুকুটের মতো অংশে সবুজ-নীল রঙের ছোঁয়ায় এ মাসকটে যেন ভেসে উঠেছে পৃথিবীর ছবি, যে ছবি কেবলমাত্র চাঁদ থেকে পৃথিবীর দিকে তাকালেই দেখা যায়।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাকাশের প্রতি প্রবল কৌতুহল আর ভালোবাসা থেকেই পুতুলটির ছবি এঁকেছিল আট বছর বয়সী লুকাস ইয়েই। বিশ্বব্যাপী আয়োজিত ‘মুন মাসকট’ প্রতিযোগিতায় চন্দ্র মিশনের টিকিট পেয়ে যায় ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউ স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী লুকাসের তৈরি ‘রাইজ’।
৫০ দেশের দুই হাজার ৬০০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী এতে অংশ নেয়। চন্দ্রাভিযানের মাসকট তৈরিতে এটিই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে যে কারও অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল।
নাসার আর্টেমিস–২ মিশনে মহাকাশচারীদের সঙ্গী পুতুল ‘রাইজ’ ইতোমধ্যে পৃথিবীর সীমারেখা পার হয়ে প্রবেশ করেছে চাঁদের অক্ষে।
ফ্লোরিডা থেকে আর্টিমিস-২ এর উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা আগে লুকাসের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—তার ডিজাইন মহাকাশে যাচ্ছে, কেমন লাগছে?
উত্তরে সে বলেছিল, ‘খুব অবাক আর খুব খুব খুশি। মহাকাশ আমার ভীষণ প্রিয়।’
আর্টেমিস–২ মিশনে ‘রাইজ’ শুধু নভোচারীদের সঙ্গ দেওয়ার জন্য নয়, গুরুত্বপূর্ণ কাজও আছে তার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাইজ’কে তৈরি করা হয়েছে জিরো-গ্রাভিটি ইন্ডিকেটর হিসেবে। অর্থাৎ, মহাকাশযান যখন পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে ওজনহীন অবস্থায় পৌঁছাবে, তখন এই পুতুলটি শূন্যে ভাসা শুরু করবে, যা মহাকাশচারীদের জন্য একটি দৃশ্যমান সংকেত।
উৎক্ষেপণের পর প্রথম ৮ মিনিট চার নভোচারীর সঙ্গে ‘রাইজ’ও সিটে বসে ছিল। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ছেড়ে মহাকাশে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ভাসতে শুরু করে এটি।
আর্টেমিস–২ মিশনের মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান বলেন, ‘গভীর মহাকাশে যেখানে জটিল যন্ত্রপাতি দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রিত, সেখানে এই ইন্ডিকেটরটি একটি মানবিক স্পর্শ, যা আমাদের মহাকাশ অভিযানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
‘রাইজ’ নামটি এসেছে বিখ্যাত ‘আর্থরাইজ’ ছবির অনুপ্রেরণা থেকে। ১৯৬৮ সালে অ্যাপোলো–৮ মিশনের সময় তোলা হয়েছিল ছবিটি। পুতুলটির ডিজাইনেও সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছাপ রয়েছে।
যদি আর্টেমিস–২ মিশন সফল হয়, তবে লুকাসের ‘রাইজ’ও প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ১০ দিনের অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
ছোট্ট এক শিশুর কল্পনা ও ভালোবাসার ছবি ‘রাইজ’ যদি শেষ পর্যন্ত চাঁদে পৌঁছায়, তবে সেটিই ২০২৮ সালে আর্টেমিস–৪ মিশনের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।