ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে দেড় লাখ কোটি ডলার চাইল হোয়াইট হাউস
ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান খরচ সামাল দিতে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় দেড় লাখ কোটি ডলারের এক বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
আজ শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসে এই বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হয়।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের ব্যয় প্রতি বছর যে হারে বাড়ছে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছুচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী এ বছর পেন্টাগনের মোট বাজেট প্রায় ৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের বাইরে অন্যান্য ব্যয় প্রায় সাত হাজার ৩০০ বিলিয়ন ডলার বা ১০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয়, অপচয়মূলক ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বিভিন্ন কর্মসূচি কমিয়ে এবং কিছু দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে এই কাটছাঁট করা হবে।
পেন্টাগন এখনো এই বাজেট প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বাজেট প্রস্তাবে অনুমোদন দিতে ইতোমধ্যে আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বাজেটের বড় অংশ যেন নিয়মিত সরকারি অর্থায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদন করা হয় এবং বাকি ৩৫০ বিলিয়ন ডলার দলীয় সমর্থনে বিশেষ আইন প্রক্রিয়ায় পাস করা হয়।’
প্রস্তাব ঘোষণার আগে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে অস্ত্রের মজুত ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।
এছাড়া একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে ট্রাম্প অন্যান্য খাতের তুলনায় প্রতিরক্ষা ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিতে বলেন।
তিনি বলেন, ‘ডে-কেয়ার, মেডিকেয়ার—এসব একসঙ্গে সামলানো সম্ভব নয়। এগুলো স্টেট পর্যায়ে করা যেতে পারে। আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামরিক সুরক্ষা।’
হোয়াইট হাউস তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করলেও পরে তা সরিয়ে নেয়।
এদিকে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
তাদের মতে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসন এখনো পর্যাপ্ত তথ্য দিচ্ছে না, এ অবস্থায় এত বড় বাজেট যুক্তিসঙ্গত হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।