ইরানের হামলায় কুয়েতের পানি পরিশোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ও পানি পরিশোধনাগার কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনটাই দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

কুয়েতের সরকারী গণমাধ্যম কুয়েত নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ‘আজ ভোরে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ও পানি পরিশোধনাগার ইরানের অন্যায় আগ্রাসনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ 

কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি থেকে এএফপির সংবাদদাতা জানান, ওই ঘটনায় বিদ্যুৎ বা পানি সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়েনি। 

কিছুদিন আগেই প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারগুলো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে ইরান। 

ওই হুমকিতে নিমিষেই বদলে যায় চলমান যুদ্ধের দৃশ্যপট। এর আগে পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করার আশায় ইরানের ‘সবকিছু ধ্বংস’ করে দেওয়ার প্রত্যয় প্রকাশ করেছিলেন।

এবার সেই হুমকিকে বাস্তব রূপ দিয়েছে তেহরান। 

চলমান ইরান যুদ্ধে ইতোমধ্যে পানি শোধনাগারে হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত ৮ মার্চ পারস্য উপসাগরে খনিজসমৃদ্ধ দ্বীপ দেশ বাহরাইনের এক পানি পরিশোধনাগারে প্রতিবেশী ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন।

তবে সেই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ২৩ মার্চ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয় মার্কিন মিত্র আরব দেশগুলোর পানি পরিশোধনাগারগুলোয় হামলা চালিয়ে ইরান সহজেই চলমান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে শুষ্ক আরব দেশগুলো পানীয় জলের অভাবে পড়লে পুরো অঞ্চলে হাহাকার পড়ে যাবে।

অনেক বিশেষজ্ঞের বিশ্বাস—এমনটি ঘটলে ইরান যুদ্ধের প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোর প্রতিটি মানুষের ওপর সরাসরি পড়বে। আরব দেশগুলোর শিল্পকারখানাগুলো মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যাবে। দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তেল-গ্যাসশিল্পও মুখ থুবড়ে পড়বে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পানি পরিশোধনাগারগুলোয় হামলা চালানো হয় না। কিন্তু, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ইরান যদি উপসাগরীয় দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধনকেন্দ্রগুলোয় হামলা চালায় তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘অপূরণীয়’ ক্ষতি হয়ে যাবে। দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে পুরো অঞ্চল। 

এখন ইরানের হামলা শুধু কুয়েতের পানি পরিশোধনাগারেই সীমাবদ্ধ থাকে কী না, সেটাই দেখার বিষয়।