ইরানের ‘নিউক্লিয়ার ফতোয়া’ কী ছিল, যুদ্ধের পরও কার্যকর থাকবে?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

দুই দশকের বেশি সময় আগে যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, তখন তেহরান বলেছিল, তাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা তাদের নেই।

বিষয়টি নিশ্চিত করতে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি একটি ‘ফতোয়া’ জারি করেছিলেন। এতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিকে ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়। ইরানের এই ‘পরমাণু ফতোয়া’ বা নিউক্লিয়ার ফতোয়া নিয়ে তখন হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিল।

সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, নিউক্লিয়ার ফতোয়া এখন নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারে ইরান। বিশেষ করে ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর তার দেওয়া ফতোয়া আর কার্যকর নাও থাকতে পারে। ইরানের জনপরিসরে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্র্যাফটের গবেষক ত্রিতা পারসি সিএনএনকে বলেন, ‘নিউক্লিয়ার ফতোয়ার মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে দেশটির অভিজাত শ্রেণি ও সাধারণ মানুষের মতামতে পরিবর্তন এসেছে। তবে ইরানিদের মনোভাব যে বদলাবে তা খুব একটা বিস্ময়কর নয়। কারণ, পারমাণবিক অস্ত্রধারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আলোচনার মধ্যেই ইরানে দুবার হামলা চালিয়েছে।’

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ব্যাপারে ইরানের সাধারণ জনগণের দিক থেকে চাপ রয়েছে। তবু বছরের পর বছর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা গণবিধ্বংসী এই অস্ত্রের বিরোধিতা করেছেন। বিশেষ করে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন, তখনো তিনি সেই চাপ সামলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখেও খামেনি এমন নীতি অনুসরণ করেছিলেন। ইরানের এই নীতিকে বিশেষজ্ঞরা ‘কৌশলগত ধৈর্য’ আখ্যায়িত করেন। এই নীতির আওতায় তিনি ধীরে ধীরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। এর মাধ্যমে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছালেও, চূড়ান্তভাবে বোমা তৈরি করেননি।

তবে চলতি মাসে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এমনকি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছিল, তেহরান তাদের পারমাণবিক অবস্থান পরিবর্তন করতে প্রস্তুত।

‘ইরান অ্যান্ড দ্য বোম্ব: দ্য ইউনাইটেড স্টেটস, ইরান অ্যান্ড দ্য নিউক্লিয়ার কোয়েশ্চন’ বইয়ের লেখক সিনা আজোদি বলেন, ‘ইরান সরকারের কাছে যদি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত থাকে, তবে তারা অত্যাধুনিক ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে নিক্ষেপযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্রের পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে একটি সাধারণ (ক্রুড) নিউক্লিয়ার ডিভাইস তৈরির পথ বেছে নিতে পারে।’

সিনা আজোদি উল্লেখ করেন, কয়েক দশক ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা কর্মসূচি মূলত ইরাক, ইসরায়েল এবং সম্প্রতি সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। তার মতে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগিয়ে যায়, তবে এই অঞ্চলে পারমাণবিক বোমা তৈরির পরবর্তী দাবিদার হতে পারে রিয়াদ।