‘আক্রমণাত্মক মেজাজে’ যুদ্ধ লড়ছে ইরান
ইসরায়েলের ওপর নতুন করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবারের হামলায় ইরান তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করে আরও ‘আক্রমণাত্মক মেজাজ’ গ্রহণ করেছে। খবরে বলা হয়েছে, এই হামলায় ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহারের আলামত পাওয়া গেছে।
রাতভর চালানো এই হামলায় দক্ষিণ ও মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, তেল আবিবের দক্ষিণে ঋষন লেজিয়ন এলাকায় একটি কিন্ডারগার্টেনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে সে সময় স্কুলটি বন্ধ থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে মধ্য ইসরায়েলের অন্তত আটটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও বোমা পড়ার কারণে বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরাদ ও দিমোনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
দক্ষিণ ইসরায়েলের আরাদ শহরে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে পুরো একটি এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং বহু ভবন ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
ইরানের লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ যায়নি ইসরায়েলের পরমাণু কর্মসূচির কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত দিমোনা শহরও। ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নিতে দিমোনাকে লক্ষ্য করে শনিবার দিনভর কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আঘাত হেনেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হিজবুল্লাহ ফ্রন্টেও সংঘাত
ইরানের হামলার পাশাপাশি উত্তর সীমান্তে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গেও ইসরায়েলের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। গত রোববার উত্তর ইসরায়েলে মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ২৩ বার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান কেবল শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ভবন ও সেতু ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা হিজবুল্লাহ ব্যবহার করত বলে তাদের দাবি।
আল জাজিরা জানায়, লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে ইসরায়েলিদের মধ্যে চরম শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। অধিকাংশ নাগরিককেই বারবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং জনসাধারণের জমায়েতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বহাল আছে। এ ছাড়া বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল এবং যাত্রীর সংখ্যার ওপরও নতুন করে সীমা আরোপ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা দেশবাসীকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কঠিন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলছেন।