১৪ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলে আহত প্রায় ৩ হাজার

স্টার অনলাইন ডেস্ক

গত মাসের শেষ দিনে ইরানের বিরুদ্ধে যুগপৎ বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে তেহরান। 

এসব হামলায় ইসরায়েলে অন্তত দুই হাজার ৯৭৫ জন মানুষ আহত হয়েছেন। 

আজ শুক্রবার ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। 

Israel under attack
জুনের ১২ দিনের যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইসরায়েল। ফাইল ছবি: সংগৃহীত 

 

যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি আছে বা সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, তাদের ওপরও হামলা চালাচ্ছে ইরান। 

আগ্রাসনের অন্যতম কান্ডারি হয়েও খুব একটা শান্তিতে নেই ইসরায়েল। তেল আবিব ও হাইফার মতো বড় শহরগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই বেজে উঠছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই সংঘাত নিরসনের বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন।

সংঘাতের শুরুতেই ইরানের দীর্ঘদিনের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে ইসরায়েল। এতে তেল আবিব ও ওয়াশিংটন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ে। ট্রাম্প মত দেন, চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে তাদের সব লক্ষ্য পূরণ হবে।

তবে যুদ্ধ দুই সপ্তাহে পা দিলেও তা খুব শিগগির বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। 

ইরানের ইসলামভিত্তিক শাসন ব্যবস্থাও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রত্যাশা অনুযায়ী ভেস্তে পড়েনি।

 

আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রয়াণের পর তার দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি দেশের নতুন নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। 

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বক্তব্যে শত্রুদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। 

আজ শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর জারজিরের একটি ‘স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত’ হানে। এতে বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনায় ৫৮ জন আহত হন। আরও ১৫ ব্যক্তি মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চলমান সংঘাতে উল্লেখযোগ্য আকারে ক্ষতির শিকার হয়েছে। 

এখন পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত সাত সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। 

জুনের ১২ দিনের যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইসরায়েল। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে ইরানের হামলার পরের চিত্র । ফাইল ছবি: সংগৃহীত 

 

পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে ঘটেছে একাধিক সামরিক দুর্ঘটনা, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘ইরানের আছে ছয় হাজার বছরের পুরনো একটি সভ্যতার উত্তরাধিকার। আজ পর্যন্ত কোনো বহিঃশত্রু ইরানের নাম মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। যারা ভাবছেন ইরানকে ধ্বংস করবেন, তারা আমাদের ইতিহাসের বিষয়ে কিছুই জানে না। আগ্রাসীরা আসে যায়, কিন্তু ইরান টিকে থাকে।’ 

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইরান ‘দমন’ করতে যেয়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই বুঝতে পেরেছে, নিরীহ নিরস্ত্র গাজাবাসীর ওপর হামলা চালানো বা নিকোলাস মাদুরোর মতো দুর্নীতিবাজ প্রেসিডেন্টকে উঠিয়ে আনা যত সহজ, সভ্য-শিক্ষিত ও প্রযুক্তিতে উন্নত ইরান জাতিকে পরাস্ত করা ততটা সহজ নয়।