কিশোরগঞ্জে রোগীর স্বজনকে কক্ষে আটকে মারধর, চিকিৎসককে অব্যাহতি

সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জে রোগীর স্বজনকে কক্ষে আটকে মারধরের অভিযোগ ওঠায় এক চিকিৎসককে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন মো. নাজমুল করিম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

অভিযুক্ত চিকিৎসক ইসরাত জাহান মৌ ওই হাসপাতালের চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ। এছাড়া শহরে একটি ব্যক্তিগত চেম্বারও পরিচালনা করেন তিনি।

সিভিল সার্জন জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গতকাল সকালে চিকিৎসক মৌ বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে আটকে রোগীর স্বজন মো. উবায়দুল্লাহকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা উবায়দুল্লাহ তার অসুস্থ স্ত্রী ও আট মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে যান। চিকিৎসকের দেরি হওয়াতে মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও অন্য রোগীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। ১১টার দিকে চিকিৎসক মৌ হাসপাতালে যান।

উবায়দুল্লাহর অভিযোগ, কক্ষে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে চিকিৎসক মৌ-এর নির্দেশে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ তাকে মারধর করে। এসময় তার স্ত্রী-শিশুর চিৎকারে অন্য রোগীরা এগিয়ে এলে তিনি ছাড়া পান। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক মৌ ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অভিযোগকারী উবায়দুল্লাহ হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সে সিরিয়াল অমান্য করে জোরপূর্বক আমার কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় কক্ষে থাকা অন্য রোগীদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। তিনিই প্রথমে আমার সহযোগী ও আমাকে ধাক্কা মারেন। এ বিষয়ে সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করেছি।’ 

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘ভুক্তভোগী উবায়দুল্লাহ থানায় এসেছিলেন। তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক মৌও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।’