সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে বাধা কোথায়?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা চলছিল। বক্তব্য দিচ্ছিলেন পিরোজপুর-১ আসন ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ বিন সাঈদী। মাঝপথে তাকে থামিয়ে দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বলেন, ‘সংসদে দেখে দেখে পড়া অ্যালাউড না।’
একই ঘটনা ঘটে বরগুনা-১ আসন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য অলি উল্লাহর সঙ্গেও। তিনিও সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করায় স্পিকার তাকে বলেন, ‘সংসদে এটা (দেখে পড়া) অ্যালাউড না।’
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে (রুলস অব প্রসিডিউর) এমন কোনো নিয়ম কি আছে যে সংসদ সদস্যরা লিখিত বক্তব্য পড়তে পারবেন না?
কার্যপ্রণালী বিধিতে যা বলা হয়েছে
সংসদ সদস্য মাসুদ বিন সাঈদী ও অলি উল্লাহ যখন নিজেদের বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন দেখা যায় তারা সরাসরি হাউসের দিকে না তাকিয়ে কাগজ দেখে দেখে একটানা পড়ে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তাদের থামিয়ে দেন।
তিনি তাদের পরামর্শ দেন যে, তারা চাইলে ছোট কাগজে মূল পয়েন্টগুলো নোট হিসেবে রাখতে পারেন, কিন্তু পুরো বক্তব্য কাগজে মুখ গুঁজে পাঠ করা সংসদীয় রেওয়াজের পরিপন্থি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির (রুলস অব প্রসিডিউর) ২৬৭ (৩) অনুযায়ী, সংসদে অধিবেশন চলাকালে কোনো সদস্য সংসদীয় কার্যাবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন কোনো বই, সংবাদপত্র বা চিঠি পড়তে পারবেন না।
এর মানে সংসদীয় কার্যাবলীর প্রয়োজনে কোনো লিখিত নোট বা বক্তব্য পাঠ করা নিষিদ্ধ নয়। তবে এর বাইরে এভাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা যাবে না।
কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা যায়। যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য, রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী বক্তব্য, পরিসংখ্যান বা বাজেট বক্তৃতার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্পিকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা যাবে।
বিধি ৬৫ (১) অনুযায়ী, কোনো মুলতবি প্রস্তাবের ক্ষেত্রে অনুমতি চাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সদস্য কোনো বক্তব্য দেবেন না, বরং তিনি শুধু লিখিত বিবৃতির সাথে প্রস্তাবটি পাঠ করবেন।
সাধারণ সদস্যদের জন্য নিয়ম হলো—বক্তব্যের মূল সূত্রগুলো ডায়েরি বা কাগজে লিখে রাখা যাবে, মাঝে মাঝে চোখও বুলানো যাবে, তবে হাউসের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে সরাসরি কথা বলতে হবে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ও দীর্ঘদিনের সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের জন্য পুরো বক্তব্য দেখে পাঠ করা সরাসরি নিষিদ্ধ না হলেও এটি একটি অসংসদীয় রীতি হিসেবে গণ্য। গতকাল সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেই রীতির কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন।