২৭ ঘণ্টায় ঢাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি, বৃহস্পতিবার থেকে আরও বাড়তে পারে
টানা ঝরছে বৃষ্টি। কখনো ঝিরিঝিরি, কখনো ঝমঝমিয়ে। এর মাঝে কখনো কখনো দিচ্ছে স্বল্প বিরতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় গত ৫ জুলাই থেকে এই বৃষ্টি।
আজ সোমবারের পূর্বাভাস অনুসারে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
ভারী বর্ষণে ঢাকা মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে ভারী ও একই সময়ে ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে অতি ভারী বর্ষণ বিবেচনা করা হয়।
গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় ঢাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৬টা পর্যন্ত) রেকর্ড হয়েছে ৯৭ মিলিমিটার।
আবহাওয়া পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, ১৫ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা তুলনামূলক কম থাকবে। তবে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ১৬ জুলাই থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আবারও বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিনে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের বলয় লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী বরাবর তরান্বিত হয়েছে এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে এসেছে।
আজ সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোণায় সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদী ১৫ সেন্টিমিটার; কুশিয়ারা নদীর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার এবং নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদী বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আরও কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী দুই দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রে থাকা তথ্য অনুসারে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের যাদুকাটা, ভূগাই-কংস নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বেড়েছে উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল।
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভূগাই-কংস নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও জানান, এই সময়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তা নদী ও দুধকুমার নদের পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া, প্লাবিত হতে পারে গাইবান্ধার তিস্তা নদী ও কুড়িগ্রামের ধরলা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে, জানান মাহমুদুল।