কুয়াকাটাকে ‘শূন্য বর্জ্য নগরীতে’ রূপান্তরের উদ্যোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

পর্যটননগরী কুয়াকাটাকে ধীরে ধীরে ‘শূন্য বর্জ্য নগরীতে’ রূপান্তরের লক্ষ্যে জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্মসচিব) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন।

কুয়াকাটা পৌরসভার মালিকানাধীন জমিতে গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি ও এসএসডিপির উদ্যোগে এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইনসিনারেশন অল্টারনেটিভসের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

‘জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার উৎপাদন কেন্দ্র: কুয়াকাটা উপকূলীয় শহরের শূন্য বর্জ্যে রূপান্তরের একটি উদ্যোগ’ শীর্ষক প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য কুয়াকাটার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক, গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী পরিচালক এ কে এম. মাকসুদ এবং এসএসডিপির নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাকসুদ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কুয়াকাটার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্রটি বছরে প্রায় ৩৬ টন জৈব কম্পোস্ট সার উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রটিকে শুধু সার উৎপাদনের জায়গা হিসেবে নয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হবে। এখানে শিক্ষার্থী, কৃষক ও পরিবেশকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের কম্পোস্ট তৈরির পদ্ধতি হাতে-কলমে শিখতে পারবেন।

ছবি: স্টার

প্রকল্পের আওতায় বাড়ির আঙিনায় গর্তভিত্তিক কম্পোস্টিং, ভার্মিকম্পোস্টিং, জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই উৎপাদন, বক্স কম্পোস্টিং, টায়ার কম্পোস্টিং ও ড্রাম কম্পোস্টিংয়ের মতো বিভিন্ন পদ্ধতি শেখানো হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জৈব বর্জ্যের পাশাপাশি প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, কাগজ ও ধাতব পদার্থ আলাদাভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, বর্জ্য পৃথকীকরণ করে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের উপযোগী বর্জ্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক চেইনের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। এতে একদিকে বর্জ্যের পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়বে। একইসঙ্গে বর্জ্য ফেলার স্থানগুলোর ওপর চাপ কমে সেগুলোর কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব বাড়বে।

বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রমে অসহায় ও দুঃস্থ নারীদের যুক্ত করার পরামর্শও দেন জেলা প্রশাসক। এতে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

এ ছাড়া, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের জন্য কেন্দ্রে নিয়মিত কম্পোস্টিং পদ্ধতির প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি। এর মাধ্যমে কৃষিকাজ ও খাদ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সার ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তাদের আশা, কুয়াকাটার এই কেন্দ্র ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ‘শূন্য বর্জ্য শহর ও সম্প্রদায়’ ধারণা বাস্তবায়নে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে ভূমিকা রাখবে।