ঝড়ে ভেঙে পড়েছে একাধিক গাছ, ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

আকস্মিক ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে প্রবল ঝড় শুরু হলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে মহাসড়কের গঙ্গারামপুর, আটাইকুলা ও রাজাপুর এলাকায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

পাবনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শফিউল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গঙ্গারামপুর থেকে রাজাপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় কয়েকটি গাছ উপড়ে গেছে।’

‘সবচেয়ে বড় গাছগুলো গঙ্গারামপুর ও রাজাপুর এলাকায় পড়েছে,’ বলেন তিনি।

পাবনা ও সুজানগর ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা যৌথভাবে সড়ক পরিষ্কারের কাজ করছেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।

শফিউল ইসলাম আরও বলেন, ‘চলমান বৃষ্টির কারণে আমরা যত দ্রুত কাজ করতে চাই, তত দ্রুত পারছি না। গাছগুলো বড় হওয়ায় মহাসড়ক পুরোপুরি পরিষ্কার করতে কিছুটা সময় লাগবে।’

দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় আটাইকুলা থেকে পাবনা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার লম্বা যানজট সৃষ্টি হয়। গরম ও বৃষ্টির মধ্যে আটকে পড়া শত শত যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ডা. জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শহিদুর রহমান গঙ্গারামপুর এলাকায় আটকে পড়াদের একজন। প্রতিদিন সুজানগর উপজেলার দুয়ালি এলাকায় তার কলেজে যাতায়াত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে দুই ঘণ্টা ধরে আছি। সাধারণত দুপুরে বাসায় ফিরে খাবার খাই, কিন্তু আজ কখন পৌঁছাতে পারব, জানি না।’ 

রাজাপুর এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগে পড়েন একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত নুরুন্নবী খান।

তিনি বলেন, ‘আমি টার্মিনাল থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরে ছিলাম, তখনই ঝড় শুরু হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পেরিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে একটি থ্রি-হুইলার ভাড়া করতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে।’

মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দুপুর ২টার দিকে ঝড় শুরু হলে চার থেকে পাঁচটি বড় কড়ই গাছ সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে।’

‘আমরা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কাজ করছি সড়ক পরিষ্কার করতে। এটি জেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম মহাসড়ক হওয়ায় দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে,’ বলেন ওসি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিকেলের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সড়ক পরিষ্কারের কাজ চলছিল।