‘ব্যর্থ’ প্রক্টর অফিস
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টর অফিসের দেয়ালে ‘ব্যর্থ’ লিখে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনে অবস্থিত প্রক্টর অফিসের প্রধান ফটকে সাদা রঙ দিয়ে ইংরেজিতে বড় অক্ষরে ‘গেট আউট’ লেখা হয়েছে।
ভবনের সামনে ও বারান্দায় ‘প্রক্টর অফিস’ ও ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’ লেখা ছিল। শিক্ষার্থীরা সেই লেখার ওপরে সাদা রঙে ‘ব্যর্থ’ লিখে দিয়েছেন।
এমনভাবে সেটি লেখা হয়েছে যে দূর থেকেই ওই ভবনের নাম ‘ব্যর্থ প্রক্টর অফিস’ মনে হচ্ছে।
জাবি ক্যাম্পাসে গত ১২ মে রাতে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এ কাজ করেছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে গতকাল বুধবার রাতে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। মশাল মিছিল ও রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।
তারা আরও জানায়, বৃহস্পতিবার প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রক্টর অফিসের বারান্দায় সাইনবোর্ডের সঙ্গে ‘ব্যর্থ’ ও ‘অক্ষম’ লিখে দেয়।
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সজীব আহমেদ জেনিস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই প্রক্টর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিপীড়নের অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু কোনো অভিযোগেরই সুষ্ঠু বিচার হয়নি। এই প্রক্টর অফিস সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।'
'এর প্রতিবাদস্বরূপ আমরা এই দেয়ালে "ব্যর্থ" লিখে দিয়েছি,' বলেন তিনি।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, 'শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন প্রক্টর। এবার ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পরও তিনি দায়িত্ব এড়ানোর মতো বক্তব্য দিয়েছেন। তাই আমরা মনে করি, এই পদে থাকার আর কোনো যোগ্যতা নেই তার।'
প্রক্টর অফিসের নামের আগে ‘ব্যর্থ’ লিখে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'লেখাটি দেখেছি। আন্দোলনের কোনো একসময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এটা লিখে দিয়েছে।'
জানতে চাইলে জাবি প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, 'আমি জানি না।'
ঘটনার বিচারে শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে হবে।'

