ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলন করলে আগে স্থানীয়দের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আগে স্থানীয়দের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন।

আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, 'আমরা সবাই রাজনীতি করি এই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। অবশ্যই আমরা দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধান করতে চাই। ফুলবাড়ীয়ায় যে কয়লার খনি আছে সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো কয়লার একটি।'

'আমরা এই কয়লা উত্তোলন করে যদি আমাদের জ্বালানি সংকট মেটাতে পারি, অবশ্যই সেটা যেমন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করবে, একইভাবে দেশের জন্য সেটি ভালো হবে,' বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'অবশ্যই সেই কয়লা উত্তোলন করতে গেলে ওপেন পিট (উন্মুক্ত পদ্ধতি) যদি করতে হয়, স্বাভাবিকভাবেই সেখানে বসতবাড়ি আছে, কৃষিজমি আছে। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, অবশ্যই সবার আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেব, কীভাবে সেই মানুষদের আগে সেটেলমেন্ট করা যায়।'

'তাদের সেটেলমেন্টের ব্যবস্থা করে, তাদের আয়-রোজগার যেন বন্ধ না হয় এবং সেই প্রকল্প গ্রহণ করলে সেখান থেকেও যেন তারা কোনো না কোনোভাবে সুবিধা পেতে পারে, সেসব পর্যালোচনা করেই এবং পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব,' যোগ করেন তিনি।

আরেক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগ সরকার বাাপেক্সকে পঙ্গু করে দিয়েছিল, যার কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ থাকা এবং আমদানি-নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট চলমান জ্বালানি সংকট উত্তরণে সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির আওতায় ১৫০ কূপ খনন বা ওয়ার্কওভার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ খনন করা হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত করা হয়েছে। চলমান ৭টি কূপের খননকাজ শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে।

দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার টু-ডি সিসমিক সার্ভে ও ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে আরও ২টি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অনশোর (স্থলভাগ) মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। অফশোর (জলভাগ) এবং অনশোর অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরের কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আগ্রহী পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে আগামী ২ বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানো যাবে।

এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও ২টি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।