তেল নিয়ে এখনো কোনো অসুবিধা নাই, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট: জ্বালানিমন্ত্রী
জ্বালানি তেল নিয়ে এখনো কোনো অসুবিধা নেই জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সকালে অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকছে এবং কর্তৃপক্ষ সকালে বলছে তেল নেই। এখনো মানুষ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। আপনি গতকাল বলেছেন তেলের সংকট নেই, তাহলে মানুষ তেল পাচ্ছে না কেন জানতে চাইলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে (পাম্পে) সারাদিন পরেও (জ্বালানি) তেল উদ্বৃত্ত থাকতো। কিন্তু এ রকম লাইন দিয়ে সারাদিন বিক্রি করার পরে উদ্বৃত্ত থাকে না, আর আমাদের ডিপোগুলো থেকে তেলের ট্যাংকার পৌঁছাতে সময় লাগে, সে জন্য সকালবেলা থাকে না। পরে তো থাকে!’
‘একটি বিষয় বুঝতে হবে, হঠাৎ করে চাহিদা এ রকম বেড়ে গেছে যে, যারা নাকি (পাম্প) সারাদিনে যে তেল বিক্রি করতো, সেই তেল তিন ঘণ্টায় শেষ করে ফেলছে। স্বাভাবিকভাবেই তেল শেষ হয়ে যাবে তো! হঠাৎ করে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে পেট্রল পাম্পে। আমাদের তো একটা প্রক্রিয়ায় পেট্রল পাম্প চলে। সেই নিয়মটা এখন ভেঙে পড়ছে। এত এত ভিড়! পেট্রল পাম্পে সব সময় যে তেল দেওয়া হয়, সেটাই থাকে, কিন্তু তার গ্রাহক বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই লাইন থাকবে, (তেল) পাবে না। এটা অস্বাভাবিক কিছু না তো,’ বলেন তিনি।
জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি গতকালকে বলেছি, আপনারা তেল পাবেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নিয়েন না, তাহলে আমরা সরবরাহটা ঠিক রাখতে পারবো।’
‘১০ জনের খাওয়ার জন্য একজন খেয়ে ফেলে, তাহলে সংকট হবে। এখন যদি একই লোক ১০টা পাম্প ঘুরে ঘুরে ট্যাংক বোঝাই করে, তাহলে তাই হবে। আমরা গাড়ির মালিকদের সহযোগিতা চাচ্ছি,’ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি।
তেলের দাম বাড়বে কি না জানতে চাইলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘দাম বাড়ানোর বিষয়টা তো মন্ত্রণালয় দেখে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দেখে, তারা বুঝবে। আর এখনো তো বাড়াইনি।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে গেছে। আর আমরা একভাবে সরবরাহ করতাম, সেই সরবরাহ চলছে। চাহিদা বেড়ে গেলে তো সেখানে তো একটু সংকট হবে। সে সংকট হচ্ছে।’
ঈদে তেলের জন্য কোনো অসুবিধা হয়নি উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমার মনে হয় যে, এখনো কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু মানুষকে বুঝতে হবে, অকারণে মজুত করার কোনো প্রয়োজন নাই। জিনিসটা তো আমরা তৈরি করি না, আমদানি করি এবং পৃথিবীতে একটা গোলমাল লেগেছে। সে জন্য সবাইকে তো সাশ্রয়ী হতে হবে!’