কুমিল্লায় ৩ ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি, বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা

রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরের প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার সকালে নগর ঘুরে দেখা যায়, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি পানি জমেছে।

পানি জমেছে ছোটরা, কাপ্তানবাজার, বিষ্ণুপুর ভাটপাড়া এলাকাতেও। বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর বলেন, পানি ঠিকভাবে প্রবাহিত হতে না পারার কারণে ছোটরা, কাপ্তানবাজার, বিষ্ণুপুর ভাটপাড়া এলাকায় পানি জমে আছে।

ছোটরা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে না পেরে দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

নগরের অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় ব্যাহত হয় যান চলাচল। কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ। বাড়তি ভাড়ার পাশাপাশি সড়কে রিকশা না পাওয়ার কথাও জানান অনেক যাত্রী।

জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের। সড়কে থাকা পানি পেরিয়ে বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয় তাদের।

সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে হাঁটুসমান পানি জমেছিল। অনেক পরীক্ষার্থী পানি মাড়িয়ে, আবার কেউ নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছান।

নগরের চর্থা এলাকায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের বাইরে দেখা যায়, উঁচু জায়গা থেকে প্লাস্টিকের নৌকায় করে কেউ কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জয়নাল আবেদিন বলেন, মেয়েকে নিয়ে এসেছি। পানি পেরিয়ে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। ভেজা কাপড় নিয়ে কেমন পরীক্ষা দিবে জানি না। তার ওপর রিকশা- অটোরিকশা কিছু নেই। আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে।

বৃষ্টিতে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা। বৃষ্টির পানিতে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

কুমিল্লা জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আরও ভারী বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

কুমিল্লা সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, জলাবদ্ধতা যেন দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী না হয়, সেজন্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোর থেকেই তারা কাজ করছেন।