‘গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পেলে আবারও ধারাবাহিকে ফিরব’
অভিনেত্রী তাহমিনা সুলতানা মৌ ধারাবাহিক নাটক থেকে আপাতত দূরে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পেলে আবারও ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। আসন্ন ঈদে তার অভিনীত একাধিক নাটক প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।
১৯৯৯ সাল থেকে অভিনয় করছেন মৌ। ক্যারিয়ারে তিনি বহু এক ঘণ্টার নাটক, টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। একসময় মঞ্চ নাটকেও কাজ করেছেন। বিজ্ঞাপনে কাজ করেও তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে এই অভিনেত্রী ঈদের নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ইতোমধ্যে তিনি দুটি ঈদের নাটকের শুটিং শেষ করেছেন। আরও একটি নাটকের শুটিং শিগগির শুরু হবে।
এর মধ্যে ‘হ্যাপি ডিভোর্স’ নাটকটি পরিচালনা করেছেন তপু খান। তারকাবহুল এই নাটকে মৌ গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
তিনি বলেন, ‘হ্যাপি ডিভোর্স নাটকের গল্পটা দারুণ। দর্শকদের ভালো লাগবে। পরিচালক খুব গুছিয়ে কাজ করেছেন। অনেক শিল্পী আছেন নাটকটিতে। এই নাটকে কেয়া পায়েল ও আমি দুই বোন।’
‘হ্যাপি ডিভোর্স’ একটি পারিবারিক গল্পের নাটক বলে জানান তিনি।
মহিদুল মহিম পরিচালিত ‘মন প্রিয়া’ নাটকের শুটিংও শেষ করেছেন মৌ। এই নাটকে জোভান ও গায়িকা পড়শি অভিনয় করেছেন। মৌ এতে অন্যতম প্রধান চরিত্রে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় নাটকটি দেখতে দর্শকদের ভালো লাগবে।’
এ ছাড়া মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় আরও একটি ঈদের নাটকের শুটিং শিগগির শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বহু ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করলেও বেশ কিছুদিন ধরে নতুন কোনো ধারাবাহিকে কাজ করছেন না মৌ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘টানা সিরিয়াল তো অনেক করেছি। এখন করছি না। তবে, কখনোই করব না তা নয়।’
ধারাবাহিক নাটকের কাজের ধরন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেখুন, ধারাবাহিকের জন্য অল্প দিনের শিডিউল নেওয়া হয়, কিন্তু দৃশ্য করা হয় অনেক। দুই দিনের কাজ একদিনে হয়। অভিনয়শিল্পীর ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে যায়। দ্রুত কাজ শেষ করতে হয়। আমি মনে করি, এতে করে নাটক থেকে চরিত্রটি হারিয়ে যায়। লম্বা হতে থাকে গল্প। আবার গল্পের সমাপ্তি ভালো মতো হয় না।’
‘এইসব কারণেই ধারাবাহিক থেকে দূরে আছি। সামনে অবশ্যই করব যদি চরিত্রের গুরুত্ব থাকে,’ যোগ করেন তিনি।
ইদানীং টেলিভিশনে পারিবারিক গল্পের নাটক বেশি হচ্ছে—এ বিষয়ে মৌ বলেন, ‘এটা টেলিভিশন নাটকের জন্য ইতিবাচক দিক। একটি নাটকে অনেক শিল্পী থাকতে পারেন। পারিবারিক গল্প বেশি বেশি হলে দর্শকরা যেমন ভালো নাটক দেখতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘যদি পরিচালক ও নাট্যকার পারিবারিক গল্পের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন, তাহলে কম-বেশি সব শিল্পী অভিনয় করার সুযোগ পান। এতে ইন্ডাস্ট্রি আরও বড় হবে।’
‘গুলশান এভিনিউ’ ও ‘সোনার পাখি রূপার পাখি’ ধারাবাহিক নাটক মৌয়ের অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।
তিনি বলেন, ‘সোনার পাখি রূপার পাখি নাটকে সেতারা বেগম চরিত্রে অভিনয় করে প্রচুর সাড়া পাই। মানুষ এখনো ওই চরিত্রের কথা মনে রেখেছেন। গুলশান এভিনিউ নাটকের কথাও দর্শক মনে রেখেছেন।’
অভিনয় নিয়ে এই সময়ের চাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সব ধরণের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। পুলিশ চরিত্র হোক, আইনজীবী চরিত্র হোক—সবরকম। কিন্তু, চরিত্রের গুরুত্ব থাকতে হবে।’