চলচ্চিত্রে লেখা গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ১০ কালজয়ী গান
বাংলা চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের নাম শাশ্বত ও অমর হয়ে আছে। এই কিংবদন্তি গীতিকবি তার ৬০ বছরের সমৃদ্ধ সংগীতজীবনে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি গান রচনা করেছেন।
বিবিসির জরিপ অনুযায়ী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০ বাংলার গানের মধ্যে তিনটি তার লেখা।
গাজী মাজহারুল আনোয়ারের গান কেবল বাংলা ভাষাভাষি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। দেশাত্মবোধক গানের পাশাপাশি সিনেমার জন্য লেখা তার গানগুলো আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।
আজ ২২ ফেব্রুয়ারি এই কিংবদন্তি গীতিকবির জন্মদিন।
১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তালেশ্বর গ্রামে গাজী মাজহারুল আলোয়ারের জন্ম।
তার স্ত্রীর জোহরা গাজী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের সেরা ক্রীড়াবিদ এবং পরে চলচ্চিত্র প্রযোজক হন। ছেলে সরফরাজ আনোয়ার উপল ব্যবসায়ী এবং মেয়ে দিঠি আনোয়ার একজন কণ্ঠশিল্পী।
গাজী মাজহারুল আনোয়ার প্রায় ৪১টি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই গান লিখছেন সেখানে।
বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০ বাংলা গানের তালিকায় তার লেখা গান আছে তিনটি। এগুলো হলো—জয় বাংলা বাংলার জয়, একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গায় এবং একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল।
স্বাধীনতাযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক পেয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন পাঁচবার। শিল্প অবদানের জন্য ২০০২ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। ২০২১ সালে পান স্বাধীনতা পুরস্কার।
গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কালজয়ী গানের তালিকায় আছে- আছেন আমার মোক্তার, গানের কথায় স্বরলিপি লিখে, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, এই মন তোমাকে দিলাম, ইশারায় শীষ দিয়ে, চোখের নজর এমনি কইরা, এই মন তোমাকে দিলাম, চলে আমার সাইকেল হাওয়ার বেগে ইত্যাদি। দেশাত্মকবোধক গানের মধ্যে আছে—জয় বাংলা বাংলার জয়, একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল, একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়, জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো ইত্যাদি।
সিনেমায় লেখা কালজয়ী ১০ গান হলো—
- আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল (চলচ্চিত্র: আয়না ও অবশিষ্ট, কণ্ঠশিল্পী: আঞ্জুমান আরা বেগম)
- শুধু গান গেয়ে পরিচয়, (চলচ্চিত্র: অবুঝমন, কণ্ঠশিল্পী: সাবিনা ইয়াসমিন)
- সে যে কেন এলো না (চলচ্চিত্র: রংবাজ, কণ্ঠশিল্পী: সাবিনা ইয়াসমিন)
- বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িত গেলাম (চলচ্চিত্র: কসাই, কণ্ঠশিল্পী: রুনা লায়লা)
- সবাই বলে বয়স বাড়ে (চলচ্চিত্র: ফকির মজনু শাহ, কণ্ঠশিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়)
- ইশারায় শীষ দিয়ে (চলচ্চিত্র: বন্দিনী, কণ্ঠশিল্পী: সাবিনা ইয়াসমিন)
- আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার (চলচ্চিত্র: গোলাপী এখন ট্রেনে, কণ্ঠশিল্পী: সৈয়দ আব্দুল হাদী)
- চুল ধইরো না খোঁপা খুলে যাবে হে নাগর (চলচ্চিত্র: নয়নমনি, কণ্ঠশিল্পী: সাবিনা ইয়াসমিন)
- ঢাকা শহর আইসা আমার আশা পুরাইছে (চলচ্চিত্র: অশিক্ষিত, কণ্ঠশিল্পী: শাম্মী আখতার, খন্দকার ফারুক আহমেদ)
- নীল আকাশের নিচে আমি (চলচ্চিত্র: নীল আকাশের নীচে, কণ্ঠশিল্পী: খন্দকার ফারুক আহমেদ)
গাজী মাজহারুল আনোয়ার ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
