দ্রুত শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন এবং পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। বহুল আলোচিত এই তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকী, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরিন জাহান প্রমুখ।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের বলেন, 'তৃতীয় টার্মিনাল ঠিক কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা টার্মিনালটির কার্যক্রম দ্রুত শুরুর লক্ষ্যে কাজ করছি এবং পর্যালোচনা করছি। প্রধানমন্ত্রী এটি দ্রুত চালুর বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন।'
এদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বৈঠকটিকে ‘রুদ্ধদ্বার বৈঠক’ উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাকি অর্থ জাপানি সংস্থা জাইকার ঋণ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হয়। তখন বেবিচক জানিয়েছিল ২০২৪ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের চেষ্টা সত্ত্বেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও পরিচালনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তহীনতা এবং টার্মিনাল ভবনের ভেতরের কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এটি চালু করা যায়নি। বেবিচক কর্মকর্তাদের মতে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃতীয় টার্মিনাল চালু নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
বেবিচক সূত্র জানায়, টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎজ এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন। জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত রাজস্ব ভাগাভাগির হার সরকারের কাছে বেশি মনে হওয়ায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা বশিরউদ্দিন জানুয়ারিতে বলেছিলেন, এ টার্মিনাল চালু নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জাপানের উপমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু সফল হয়নি।
বেবিচক ও মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, 'চুক্তির শর্তের বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।'
বেবিচকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'গত বছরের শেষদিকে বেশ কয়েকটি বৈঠক হলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো ফল আসেনি।'
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, 'টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।'
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা ছিল, কনসোর্টিয়ামের তত্ত্বাবধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দুই বছরের জন্য তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন পরিচালনা করবে এবং বেবিচক ডেটা নিরাপত্তা দেবে।
কর্মকর্তারা জানান, চুক্তি সইয়ের পর টার্মিনাল চালুর জন্য জনবল নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের জন্য অন্তত ৬ মাস সময় লাগবে।
এছাড়া, টার্মিনালের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি এখনো প্রণয়ন করা হয়নি।
৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের তৃতীয় টার্মিনালে চার শিফটে কাজ করার জন্য প্রায় ৬ হাজার কর্মীর প্রয়োজন হবে, যাদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার থাকবে নিরাপত্তা কর্মী।