২ কারণে করোনায় মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের ২ কারণে করোনায় মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত 'ডায়াবেটিস চিকিৎসা: বর্তমান ও আগামীর ভাবনা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে, সবার চেষ্টায় এটা হয়েছে। মৃত্যুর হার কমার একটি কারণ হলো, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে। দ্বিতীয় কারণ হালো, টিকাদান বিরাট ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, 'আমরা একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে টিকা দিয়েছি। আমরা ২১ কোটি ভ্যাকসিন কিনেছি। ১০ কোটির বেশি আমরা রিসিভ করেছি। সাড়ে ৭ কোটি ডোজ আমরা দিয়েছি। টিকাদানে বয়স্কদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কারণ যারা মারা গেছেন, তাদের বেশির ভাগের বয়স ৪৫ বছরের বেশি। মৃত্যুহার কমে গেছে কারণ তারা সবাই টিকা পেয়ে গেছেন। আমাদের প্রায় ৫ কোটি ভ্যাকসিনেটেড হয়ে গেছে। ৪ কোটি মানুষ দ্বিতীয় ডোজও পেয়েছেন।'
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'নতুন ওষুধের আমরা অনুমোদন দিলাম। সেটাও বিরাট আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করবে বলে আমি আশা করি। যারা করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, তাদের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো সিক্স প্লাস গ্রোথে আছে। কারণ করোনা নিয়ন্ত্রণে, কারখানা চলছে, কৃষি চলছে, স্কুল-কলেজ আমরা খুলে দিয়েছি।'
ডায়াবেটিস নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ডায়াবেটিস রোগী এখন অনেক বেশি। যখনই আমরা জরিপ করি ডায়াবেটিস রোগী অনেক বেশি পাওয়া যায়, এটা আশঙ্কাজনক। অল্প বয়সীরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডায়াবেটিস নিয়েও অনেকে জন্ম নিচ্ছে, সে সংখ্যাও কম নয়। আমাদের দেশে প্রায় কোটি খানেক রোগী আছে। নিয়ন্ত্রণে থাকলে এটা এমন কোনো রোগ না কিন্তু নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এটা সাইলেন্ট কিলার। এটা একটা লোককে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।
এখন মানুষ অনেক সচেতন। গ্রামে গেলে দেখি, অনেকে সকালে হাঁটে বা মিষ্টি খায় না। তবে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। ডায়াবেটিসের কারণে কিডনি রোগী বাড়ছে। প্রতিবছর ৪০-৫০ হাজার মানুষ কিডনি রোগে মৃত্যুবরণ করে। আমাদের প্রতিবছর কয়েক লাখ মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। এটার কারণও ডায়াবেটিস। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়। এর মধ্যে ডায়াবেটিসের একটি বড় অংশ রয়েছে। ৫০ শতাংশ মানুষ জানে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ৫০ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা নেয়। আমেরিকাতেও বহু মানুষ জানে না তাদের ডায়াবেটিস। কোথায় হাঁটবে, কোথায় খেলাধুলা করবে— মাঠেরও অভাব হয়ে গেছে। যেহেতু রোগটি নিরাময়যোগ্য না, তাই সবাই চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে পারে না— বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, কোভিডের কারণে অনলাইন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতে বাচ্চাদের চোখের ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি শারীরিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই অনলাইন ক্লাস আমাদের আস্তে আস্তে কমাতে হবে। বাচ্চাদের দেখি, সারাক্ষণ হাতে ট্যাব-মোবাইল ফোন নিয়ে তারা গেম খেলে। পারিবারিকভাবে এটা কমাতে হবে। তা ছাড়া, চোখের ক্ষতির পাশাপাশি স্থুলতা ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তাদের বাড়বে।