বরগুনায় বেড়েছে গরুর ক্ষুরা রোগ, টিকা সংকটে দিশেহারা কৃষক

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

বরগুনার আমতলী উপজেলায় ব্যাপকহারে গরুর ক্ষুরা রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে উপজেলার সাত ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজারেরও বেশি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

হাল-চাষের ভরা মৌসুমে এ রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা। প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে এ রোগের প্রতিষেধক এফএমডি (ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ) ভ্যাকসিন না থাকায় কৃষকরা চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

স্থানীয়রা জানান, জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আমতলী উপজেলার কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, হলদিয়া, চাওড়া, গুলিশাখালী ও আমতলী ইউনিয়নে ব্যাপকহারে গরুর ক্ষুরা রোগ দেখা দেয়। এ রোগে উপজেলার সাত ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তবে, আমতলী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় দুই হাজার ৫০০ গরু এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এ রোগে আক্রান্ত হলে গরুর শরীরে প্রচণ্ড জ্বর আসে, ক্ষুরা ও মুখে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে। এতে গরুর চলাচল এবং খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে গরু।

আমতলীসহ এ অঞ্চলে এখন ধান চাষের জন্য বীজতলা তৈরির ভরা মৌসুম। ভরা মৌসুমের সময় অধিকাংশ গরুর ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকরা তাদের জমিতে হাল-চাষ করতে পারছেন না।

চাওড়া ইউনিয়নের কালীবাড়ি গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, তার ১১টি গরুর সবগুলোই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত। এতে তার হাল-চাষ বন্ধ রয়েছে। 

আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের জব্বার মিয়া জানান, তার ছয়টি গরুর মধ্যে তিনটি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হলেও ভ্যাকসিনের অভাবে এখন তারা চিকিৎসা করাতে পারছে না।

তিনি আরও জানান, সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় বেশি দামে অন্য জায়গা থেকে ভ্যাকসিন কিনে গরুর চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।

হলদিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো. স্বপন মৃধা জানান, হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছয়টি গরুর মধ্যে পাঁচটি,  হলদিয়া গ্রামের মোস্তফা গাজীর ছয়টি, শাহ আলম খানের পাঁচটি, দুলাল গাজীর চারটি, চুন্নু মীয়ার পাঁচটি, উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ঝন্টু মোল্লার চারটি, দেলোয়ার চৌকিদারের তিনটি গরুসহ উপজেলায় তিন হাজারের বেশি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

আমতলী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. অভিজিত কুমার উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার গরুর ক্ষুরা রোগে আক্রান্তের কথা স্বীকার করে জানান, এই রোগে আক্রান্ত হলে গরুর শরীর গরম থাকে এবং মুখে ও পায়ে ঘা দেখা দেয় এবং গরুর মুখ দিয়ে লালা পড়তে থাকে। এ রোগের চিকিৎসায় এক হাজার ভ্যাকসিন মজুদ ছিল এবং তা প্রয়োগের পর এখন আর কোনো ভ্যাকসিন মজুদ নেই। চাহিদা পাঠানো হয়েছে। ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা আবার শুরু হবে।