ডেঙ্গু বাড়ছে ঢাকায়, হটস্পট বাস টার্মিনাল ও ডিপো

হেলিমুল আলম ও শাহীন মোল্লা

পরিত্যক্ত টায়ার ও প্লাস্টিকের পাত্রে পানি জমে থাকার কারণে রাজধানীর প্রধান প্রধান বাস টার্মিনাল ও ডিপোগুলো ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

টার্মিনালগুলোর আশেপাশে বৃষ্টির পানিতে পূর্ণ প্রচুর প্লাস্টিকের ব্যারেলও পড়ে আছে। এগুলো দিনের পর দিন পরিষ্কার না করায় এডিসের লার্ভা বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।

গত কয়েক মাসে দুই হাজার চার শর বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

সম্প্রতি সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালীর বাস টার্মিনাল, তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনাল ও গাবতলীর বিআরটিসি বাস ডিপোতে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদকরা অসংখ্য পরিত্যক্ত বস্তুতে পানি জমে থাকতে দেখতে পান। এগুলোর কিছু কিছুতে মশার লার্ভাও দেখতে পান তারা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ফেলে দেওয়া টায়ার এডিস মশার প্রজননের অন্যতম প্রধান জায়গা।'

গত জুনে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে পরিচালিত একটি জরিপে, পানি জমে আছে এমন ৫০ শতাংশ পরিত্যক্ত টায়ারে এডিসের লার্ভা খুঁজে পায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল।

স্বচ্ছ পানি জমতে পারে—এমন জায়গায় টায়ার রাখা উচিত নয়। কিন্তু, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের একজন বাসচালক জানান, পরিবহনকর্মীরা যেখানে ইচ্ছা টায়ার ফেলে রাখেন। এসব টায়ারে মশার লার্ভা দেখা গেছে।

সায়েদাবাদ টার্মিনালের একটি গ্যারেজের মালিক নূর মোহাম্মদ জানান, লকডাউন শুরুর পর তিনি তার গ্যারেজের পাশে বৃষ্টির পানি জমে থাকা অন্তত সাতটি টায়ার দেখেছেন। গ্যারেজের পাশের একটি টায়ারের দোকানের কর্মীরা সেগুলো ফেলে রেখেছেন।

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদকরা তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের পাশের একটি মসজিদের গেটের কাছে ফেলে দেওয়া টায়ারেও লার্ভা দেখতে পান।

আর গাবতলী এলাকায় শুধু টার্মিনালেই নয়, বিভিন্ন অটোমোটিভ পণ্যের দোকান ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশেও পরিত্যক্ত টায়ারের দেখা মেলে। শুধুমাত্র টার্মিনাল প্রাঙ্গণেই বৃষ্টির পানি জমে থাকা অন্তত ৬০টি ব্যারেল খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।

এসব ব্যারেল মালিকের কর্মচারী রহমত বলেন, 'লকডাউনের কারণে এগুলো সেখানে পড়ে আছে'। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এডিস মশা যে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে জন্মে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই।'

মহাখালী বাস টার্মিনালে বৃষ্টির পানি জমে থাকা প্রায় ২০টি পরিত্যক্ত টায়ার দেখা গেছে। এ ছাড়া, বিআরটিসি বাস ডিপোতে প্রায় ৪০টি বাস কয়েক বছর ধরে পড়ে রয়েছে। এডিস মশার জন্মের ভালো উৎস হতে পারে এগুলোও।

গত সপ্তাহে ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশন ঘরবাড়ি, নির্মাণাধীন স্থান ও অন্যান্য স্থানে এডিস মশার লার্ভা খুঁজতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করে। যেসব স্থানে এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর মালিককে জরিমানা করছেন ভ্রমমাণ আদালত।

আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ১৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই জন ঢাকার বাইরের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের নিয়ে এ বছর মোট দুই হাজার ৬৫৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৭৫ জন ঢাকার বাইরের।

শুধুমাত্র জুলাইয়ে অন্তত এক হাজার ৮৯৬ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে গত মাসে ২৭২ জনের এবং মে মাসে ৪৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। 

বর্তমানে ৭৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এবং আরও ৩০ জন অন্যান্য স্থানে চিকিৎসাধীন আছেন।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন জারীন তাসনিম