লেবাননে তেলের ট্যাংক বিস্ফোরণে নিহত ২২, আহত ৭৯
লেবাননের উত্তরাঞ্চলের আলতালিল শহরে তেলের ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে অন্তত ২২ জন নিহত ও ৭৯ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র জানায়, কালোবাজারিদের লুকিয়ে রাখা একটি তেল সংরক্ষণের ট্যাংক জব্দ করেছিল সামরিক বাহিনী। তারা ট্যাংক থেকে বাসিন্দাদের মধ্যে জ্বালানী তেল বিতরণ করার সময় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।
বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র জ্বালানী সংকটে ভুগছে লেবানন। ফলশ্রুতিতে গ্যাস স্টেশনে লম্বা লাইন ও দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে।
দুর্ঘটনাটি আক্কার প্রদেশের আলতালিল শহরে ঘটেছে, যেটি লেবাননের দরিদ্রতম এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের সময় প্রায় ২০০ মানুষ ট্যাংকটির কাছে ছিলেন।
ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসান জানান, সবচেয়ে খারাপভাবে পুড়ে যাওয়া মানুষগুলোর জীবন বাঁচানোর জন্য তাদেরকে দ্রুত বিদেশে পাঠাতে হবে।
তিনি রয়টার্সকে বলেন, 'আহত কয়েকজনকে বিদেশে চিকিৎসা করতে পাঠানোর জন্য আমাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।'
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, আহতদের অনেকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা লেবাননের হাসপাতালগুলোর সাধ্যের বাইরে।
সূত্র জানায়, সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যও হতাহতদের মধ্যে আছেন।
বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, মানুষের ভিড় অনেক বেশি ছিল। তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যার ফলশ্রুতিতে কিছু গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তেলের ট্যাংকে গুলি আঘাত করে এবং তা বিস্ফোরিত হয়।
স্থানীয় আল-জাবিদ টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, একজন লাইটার জ্বালানোর কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে।
ত্রিপলি'র আল-সালাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আবদেল রহমান। তারা মুখ ও সারা শরীর ব্যান্ডেজে জড়ানো। তিনি তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন।
আবদেল রহমান বলেন, 'সেখানে শত শত মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন, ঠিক ট্যাংকটির পাশেই। আল্লাহই জানেন তাদের পরিণতি কী হয়েছে।'
হাসপাতালে আরেকজন ভুক্তভোগীর পিতা জানান, তার আরও দুই ছেলে সেখানে ছিল, যাদের তিনি এখনো খুঁজে পাননি।
রেডক্রস জানিয়েছে, তাদের দলগুলো এখনো বিস্ফোরণের জায়গায় উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আক্কারের ক্ষুব্ধ অধিবাসীরা বিস্ফোরণের জায়গায় এসে দুটি আবর্জনা ফেলার ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন।
ইসলামিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা রশিদ মাকসুদ জানান, আহতদের নিকটবর্তী ত্রিপলি এবং বৈরুতের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আল-সালাম হাসপাতালের ড. সালাহ ইসহাক জানান, বেশিরভাগ রোগী আশংকাজনক অবস্থায় আছেন।
তিনি বলেন, 'আমরা তাদেরকে স্থান দিতে পারছি না। আমাদের সেই সক্ষমতা নেই। পরিস্থিতি খুবই খারাপ।'
গভীর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হাসপাতালগুলো সতর্ক করেছে যে, জ্বালানী সংকটের কারণে তারা আগামী দিনগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে। একইসঙ্গে তারা ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকটেও ভুগছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরি এই বিস্ফোরণের ঘটনাটিকে গত বছর বৈরুত বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে টুইটার বার্তায় জানান, 'আক্কারের দুর্ঘটনাটি বন্দরের দুর্ঘটনা থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়।'
তিনি লেবাননের রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের ঘটনার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান।
হারিরি হচ্ছেন দেশটির প্রধান সুন্নি মতাবলম্বী মুসলমান রাজনীতিবিদ। দেশটির উত্তরে সুন্নি মতাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তিনি লেবাননের রাষ্ট্রপতি মিশেল আউনের সরাসরি বিরোধিতা করে আসছেন বেশ কিছুদিন ধরে।
আউন টুইটারে প্রকাশিত শোকবার্তায় বলেন, 'আমাদের প্রিয় আক্কারে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সকল লেবানিজদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে।'
আউন আরও জানান, তিনি বিস্ফোরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও এর পেছনের কারণগুলো উদঘাটন করতে বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন।