ইউক্রেন নিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে রাজি বাইডেন
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, জো বাইডেন ও ভ্লাদিমির পুতিন নীতিগতভাবে ইউক্রেন প্রসঙ্গে সম্মেলনে যোগ দিতে রাজি হয়েছেন।
গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স ফরাসি প্রেসিডেন্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশা, গত ৭ দশকের মধ্যে ইউরোপের এই সবচেয়ে উদ্বেগজনক সংকট কাটানোর এটি একটি সম্ভাব্য ও উপযোগী পথ হতে পারে।
ফরাসি রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশ্বের ২ শক্তিধর দেশের নেতাকে মাখোঁ 'ইউরোপের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা' সংক্রান্ত সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, বাইডেন 'নীতিগতভাবে' বৈঠকে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন, শুধুমাত্র যদি 'আক্রমণ না হয়ে থাকে।'
হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব জেন পিসাকি বলেছেন, 'আমরা সব সময় কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধানে প্রস্তুত।'
'রাশিয়া যদি এর (কূটনীতি) পরিবর্তে যুদ্ধের পথে যায়, তাহলে আমরা তাদের জন্য দ্রুত ও ভয়াবহ পরিণতি নিশ্চিত করতেও প্রস্তুত আছি', যোগ করেন তিনি।
ক্রেমলিন ও ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলিনস্কির দপ্তর থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রস্তাবিত বৈঠকের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু যায়নি। মাখোঁ, বাইডেন, পুতিন, জেলিনস্কি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মধ্যে ফোনালাপের পর এ বৈঠকের ঘোষণা আসে।
মাখোঁর দপ্তর ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে আসন্ন ২৪ ফেব্রুয়ারির বৈঠকে রাষ্ট্রপতিদের সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নির্ধারিত হবে। সেই সম্মেলনে ইউক্রেনের ভূমিকা কী হবে, তাও এখনো নিশ্চিত নয়।
বাইডেন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ইমেইলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ সম্মেলন এখনো একটি 'ধারণা' মাত্র। এর দিনতারিখ ও গঠনগত বিন্যাস এখনো নির্ধারণ হয়নি।
রাশিয়ায় সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাকফল জানান, তিনি এ সম্মেলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান।
টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, 'তবে যদি বাইডেন ও পুতিন বৈঠক করেন, সেখানে জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানানো উচিৎ।'
ইউক্রেন আক্রমণের উদ্দেশ্যে সীমান্তে রাশিয়া সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে বলে পশ্চিমের শক্তিধর দেশগুলো দাবি করে আসছে। গত সপ্তাহজুড়ে সে অঞ্চলে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফরাসি রাষ্ট্রপতির প্রস্তাবের সংবাদ আসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
রাশিয়া সবসময়ই ইউক্রেন আক্রমণের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। তবে সম্প্রতি বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেলারুশে রুশ বাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ার মেয়াদ বাড়ানো হবে। এটি গত রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এতে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ইতোমধ্যে মার্কিন স্যাটেলাইট ইমেজ প্রতিষ্ঠান মাক্সার জানিয়েছে, ইউক্রেনের সীমানার ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে বন, খামার ও শিল্প এলাকায় নতুন করে রুশ সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ব্লিংকেন জানান, বেলারুশে মহড়ার মেয়াদ বাড়ানো ও ইউক্রেনের উত্তর সীমান্তে সৈন্য মোতায়েনের ঘটনায় তিনি আশংকা করছেন। তার মতে, ইউক্রেন আক্রমণের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে রাশিয়া।
তিনি আরও বলেন, 'ট্যাংক চলতে শুরু করা বা আকাশে যুদ্ধবিমান ওড়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা প্রতিটি সুযোগ ও মিনিট ব্যবহার করে দেখতে চাই। দেখতে চাই কূটনীতির মাধ্যমে পুতিনকে কোনোভাবে যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত করা যায় কী না।'
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেটের কাছে পাঠানো চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র আশংকা করে বলেছে, ইউক্রেনে হামলা হলে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।
ইতোমধ্যে পশ্চিমের দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে। যদি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে, তাহলে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানান, রুশ মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ডলার ও পাউন্ডের নাগাল পেতে দেওয়া হবে না।
ইউরোপিয়ান কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেন জানান, রাশিয়াকে নীতিগতভাবে 'আন্তর্জাতিক অর্থবাজার থেকে ছেঁটে ফেলা হবে' এবং দেশটি ইউরোপে রপ্তানি বাজার হারাতে বাধ্য হবে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা দাবি করেন, অন্তত আংশিকভাবে হলেও রাশিয়ার ওপর পশ্চিমের বিধিনিষেধ আরোপের সময় এসেছে।
তবে বাইডেন প্রশাসন এতে রাজি হয়নি। তারা জানিয়েছে, সময়ের আগে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তার উপযোগিতা থাকে না।
গত রোববার, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ব্লিংকেন ও লাভরভ তাদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতিদের সম্ভাব্য সম্মেলন নিয়ে আলোচনা করবেন।
'তবে তার আগেই যদি আক্রমণ শুরু হয়ে যায়, তাহলে আলোচনা বাতিল হবে', সতর্ক করেন তিনি।