রেল প্রধানের বর্ণনায় ৩ ইউরোপীয় নেতার কিয়েভ সফর

স্টার অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়া যখন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে ৩ দিক থেকে ঘিরে রেখে থেমে থেমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, তখন সেখানে ইউরোপের ৩ দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঘোষণা নিঃসন্দেহে আক্রান্ত দেশটির কর্মকর্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছিল।

পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীরা যখন ঘোষণা দেন যে, তারা ট্রেনে চড়ে কিয়েভে আসবেন, তখন তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে ইউক্রেনের রেল বিভাগ।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীদের কিয়েভ সফরের কাহিনীর বিবরণ গতকাল বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন'কে দিয়েছেন ইউক্রেন রেলওয়ের চেয়ারম্যান অলেকসান্ডর কামিশিন।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাতেউজ মোরাভিকি, স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানেজ জানসা ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী পিতর ফিয়ালার কিয়েভ সফর সম্পর্কে কামিশিন বলেন, 'এমন পরিস্থিতিতে এ সফরকে বোকামি বলে মনে হলেও নিঃসন্দেহে এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।'

তিনি জানান, রুশ হামলা থেকে ইউক্রেনের বেসামরিক স্থাপনার মতো রেল ব্যবস্থাও রক্ষা পাচ্ছে না। এমন ভীতিকর অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিয়েভে ৩৫ ঘণ্টার কারফিউ ঘোষণা করা হয়। সেদিন সকালে কিয়েভের পথে রওনা দেন ৩ প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন উল্লেখ করে কামিশিন আরও বলেন, 'কিন্তু, যখন দেখি অনলাইনে সব সংবাদই প্রকাশ পাচ্ছে, তখন অবাক হয়ে যাই। বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছিলাম না।'

কিয়েভে আসার পথে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মোরাভিকি ফেসবুক পোস্টে বললেন, 'যেখানে ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে সেখানে আমাদের যাওয়া উচিত। এটি শুধু আমাদের বিষয় নয়, আমাদের সন্তানদেরও বিষয়। কেননা, নিপীড়ণমুক্ত বিশ্বে বসবাসের অধিকার তাদের প্রাপ্য।'

চেক প্রধানমন্ত্রী ফিয়ালা টুইটারে বললেন, 'ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন দ্ব্যর্থহীনভাবে জানানোর জন্যই এই সফর।'

তাদের এসব ঘোষণা ৩৭ বছর বয়সী এই রেল কর্মকর্তার উদ্বেগের পারদ আরও কয়েক ধাপ চড়িয়ে দেয়।

তার ভাষায়, 'আমার বাচ্চাদেরও এ বিষয়ে কিছু বলিনি। কারণ, সবার বোঝা উচিত এখন যুদ্ধ চলছে। আমি তো সফররত প্রধানমন্ত্রীদের নির্দেশনা দিতে পারি না।'

কামিশিনের মতে, কিয়েভে ট্রেনে আসার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীরাই নিয়েছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, এটিই নিরাপদ হবে।

গতকাল বুধবার সকালে ৩ প্রধানমন্ত্রীর কিয়েভ ছাড়ার খানিক পরই জাপোরিঝঝিয়া রেল স্টেশনে রুশ বোমা পড়ে। রেল লাইনে গর্ত হয়ে যায়। স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কামিশিন বলেন, 'গাড়ি বা হেলিকপ্টারে আসার চেয়ে ট্রেনে আসাটার সিদ্ধান্তটাই বুদ্ধিমানের। যদিও সব জায়গায় বোমা পড়ছে, তবুও বলবো তুলনামূলকভাবে এই মুহূর্তে রেলভ্রমণটাই নিরাপদ।'

ইউক্রেন রেলওয়ের চেয়ারম্যান জানান, সফরকারী দল বিশেষ ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন। তারা রেলওয়ের ৪টি নতুন স্লিপার কোচে ছিলেন।

'এটা নিয়মিত ও সাধারণ ট্রেন ছিল। অন্য যাত্রীদের মতোই তারা রেলে ভ্রমণ করেছিলেন। তাদের জন্য খুব বিশেষ কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সাধারণ যাত্রীদের নিয়ে ট্রেন যে লাইনে চলাচল করে প্রধানমন্ত্রীদের নিয়ে সেই লাইনেই ট্রেন চলেছে।'

সীমান্ত থেকে কিয়েভ পর্যন্ত পৌঁছাতে অতিথিদের ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। তারা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করে রাতের ট্রেনেই আবার একই পথে পোল্যান্ড ফিরে যান।