ইউক্রেনে ‘রাসায়নিক’ হামলার অভিযোগ তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
ইউক্রেনের মারিউপোল শহরে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে 'রাসায়নিক' অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।
আজ মঙ্গলবার রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি এ তথ্য জানিয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের রুশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আজভ ব্যাটেলিয়ন অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দাবি করেছে, গতকাল সোমবার ড্রোন থেকে 'কেমিকেল এজেন্ট' ছোড়া হয়েছে।
সেই হামলার পর ঐ অঞ্চলে যুদ্ধরত ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়েছে বলেও বার্তায় দাবি করা হয়েছে।
'অজানা বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে', দাবি করেছে আজভ ব্যাটেলিয়ন বার্তায় বলা হয়, '৩ যোদ্ধা শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, মাথা ব্যথা ও দুর্বলতা অনুভব করেছেন।'
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মারিউপোলের মেয়র পেত্রো অ্যান্ড্রুশেংকোর সহযোগীর মতে, রাসায়নিক হামলার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউক্রেনের পার্লামেন্টে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দোনেৎস্ক অঞ্চলে ট্যাংকের উদ্দেশে নাইট্রিক এসিড ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।
পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক টুইটার অ্যাকাউন্টে গত রাতে দাবি করা হয়, 'টহল পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়েছে।'
বার্তায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সোডার দ্রবণে চুবানো ফেস মাস্ক তৈরি করে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
'আমাদের সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করে বিষয়টি যাচাই করছি,' উল্লেখ করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রসচিব লিজ ট্রাস গণমাধ্যমকে বলেন, 'এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার এই সংঘর্ষকে নিষ্ঠুরতার নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং আমরা এর জন্য পুতিন ও তার প্রশাসনকে দায়ী করবো।'
ওয়াশিংটনে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কার্বি জানান, মার্কিন কর্মকর্তারা মারিউপোলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
তিনি বলেন, 'এ সংবাদ যদি সত্যি হয়, তবে তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। এটি আমাদের আগের ধারণাকে সমর্থন করে। আমরা বলেছিলাম রাশিয়া ইউক্রেনে কেমিকেল এজেন্ট মিশ্রিত টিয়ার গ্যাসসহ আরও বিভিন্ন ধরনের রায়ট নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে পারে।'
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনের নেতারা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে দাবি করছেন, রাশিয়া তাদের চলমান বিশেষ সামরিক অভিযানে রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
গত সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ বিষয়ে তার উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাশিয়া যাতে এ সব অস্ত্র ব্যবহার করতে উৎসাহী না হয়, সে জন্য তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান।
জেলেনস্কি বলেন, 'এখন সময় এসেছে নিষেধাজ্ঞাগুলোকে এমনভাবে সাজানো যাতে আমরা রুশদের পক্ষ থেকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের নামও না শুনি।'
'রাশিয়ের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এখন সময়ের দাবি', বলে মনে করেন জেলেনস্কি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি গত মাসে রুশদের রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্রের ব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পর্কে বক্তব্য দেন। ইউক্রেনে মার্কিনদের কাছ থেকে পাওয়া তহবিলের মাধ্যমে জৈব গবেষণাগার তৈরি করা হয়েছে, এই অভিযোগের উত্তরে তিনি বলেন, 'এগুলো একটি সুস্পষ্ট চক্রান্ত।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের উচিৎ রাশিয়ার দিকে লক্ষ্য রাখা, কারণ তারা সম্ভবত ইউক্রেনে রাসায়নিক বা জৈব অস্ত্র ব্যবহার করতে যাচ্ছে, অথবা সেগুলো ব্যবহারের কথা বলে অভিযান সম্পর্কে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করবে।'
এ ছাড়াও, গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, 'রাশিয়া যদি ইউক্রেনে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে ন্যাটো সদস্যরা যথোপযুক্ত জবাব দেবে।'
রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেন যেন আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদেরকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং অঙ্গীকার করে তারা কখনো ন্যাটোতে যোগ দেবে না।
কিয়েভে মনে করে রুশ আগ্রাসন সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে হয়েছে এবং তারা লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলকে জোরপূর্বক আবারও ইউক্রেনের অংশ করবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।