নির্বাচনী বিরোধের জেরে নরসিংদীতে ২ ইউনিয়নে সংঘর্ষ, নিহত ২
নির্বাচনী বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদী রায়পুরা উপজেলার দুটি ইউনিয়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল বাশঁগাড়ী ও মির্জারচর ইউনিয়নে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-রুবেল মিয়া (২৭) ও মামুন মিয়া (৩০)
নরসিংদী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার জের ধরে বাশঁগাড়ী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন রাতুলের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল হকের দ্বন্দ্ব চলছিল। পাশের মির্জারচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুল ইসলাম ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের মধ্যেও দ্বন্দ্ব চলছে।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর বাঁশগাড়ীর আশরাফুল হক ও মির্জারচরের ফারুকুল ইসলামের সমর্থকরা প্রায় আড়াই মাস গ্রামের বাইরে ছিলেন।
রোববার সকালে আশরাফুলের সমর্থকরা বাশঁগাড়ী গ্রামে এলে চেয়ারম্যান জাকিরের সমর্থকরা বাধা দেয় এবং এতে ২ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ১ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫ জন আহত হন।
এদিকে, আশরাফুলের সমর্থকরা গ্রামে ফেরার পর তাদের সহায়তা নিয়ে মির্জারচর ইউনিয়নের ফারুকুলের সমর্থকরা নিজেদের গ্রামে ফেরার চেষ্টা চালায়। দুপুরের দিকে চেয়ারম্যান জাফর ইকবালের সমর্থকরা বাধা দেয়। তখন ২ পক্ষের সংঘর্ষে রুবেল মিয়া নিহত হন।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সংঘর্ষে আহত মামুন মিয়া (৩০) মারা যান।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ নূরুল হককে (১৯) নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গ্রামে ফেরাকে কেন্দ্র করে ২ পক্ষের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। পরবর্তী সহিংসতা রোধে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।'