সিকিমে রেললাইন, পরিবেশবিদদের উদ্বেগ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

চীন সীমান্তে ভারতের ছোট্ট রাজ্য সিকিমে রেললাইন নির্মাণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অধিবাসী ও পরিবেশবিদরা।

সিকিমের নাথু লায় এই রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চীন সীমান্তবর্তী হিমালয়ের এই রাজ্যটিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করতে চায় ভারত সরকার। এর ফলে জরুরি অবস্থায় সেখানে সেনাদের যাতায়াতও সহজতর হবে।

প্রায় ৪৫ কিলোমিটারের এই রেললাইন পশ্চিমবঙ্গের সেভকের সঙ্গে সিকিমের রাংপোকে যুক্ত করবে। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে।

সিকিমকে ব্রডগেজ রেললাইনের মাধ্যমে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করতে এই প্রকল্পে থাকছে ১৪টি টানেল ও ১৭টি সেতু।

ভারত সরকারের দাবি, এই প্রকল্প শেষ হলে স্থানীয় অধিবাসীদের আয় আরও অনেক বেড়ে যাবে। পাশাপাশি, হিমালয় অঞ্চলে পর্যটনকে আরও প্রসারিত করবে।

তবে পরিবেশবিদদের আশংকা, এই প্রকল্প পরিবেশের দিক থেকে ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা দার্জিলিং সিকিম হিমালয় অঞ্চলে বসবাসকারী হাজারো মানুষের জীবন হুমকিতে ফেলবে। কেননা, এটি একটি ভূমিধস, ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা।

পরিবেশবিদ ও গবেষক জাতিস্মর ভারতি সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, 'এই এলাকাটি সিসমিক জোন ফোর ও ফাইভে অবস্থিত। এটি ভূমিকম্পপ্রবণ। রেল নেটওয়ার্কের মতো বড় কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেবে।'

তার মতে, ভূমিকম্পের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও এর কারণে সেখানে পাথরের স্তর আলগা হয়ে যেতে পারে, যা নির্মাণকাজে পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়াও, ভারী যানবাহন চলাচল সেখানকার স্থানীয়দের জীবিকার মাধ্যম ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে দিতে পারে।

ভূমিধসপ্রবণ এই অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণ কাজে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জিএসআই) সাবেক কর্মকর্তারা।

জিএসআই'র সাবেক উপ-পরিচালক নিরাজ কুমার সরকার সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, 'দার্জিলিং সিকিম হিমালয় অঞ্চলটিতে ভূমিধসের অনেক ঘটনা ঘটে। ...তাই এ ধরনের বড় নির্মাণ কাজে সব বিষয় মাথায় রাখতে হবে।'

পরিবেশ ও বনরক্ষা আন্দোলনকর্মী সৌমিত্র ঘোষ আল-জাজিরাকে বলেন, 'সেখানে তিস্তা নদীর ওপর দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশের প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (ইএমপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আশপাশে পাহাড়ি এলাকা ভৌগলিকভাবে ভঙ্গুর। সেখানে ভারি কাজ করলে তা ভূমিধস ও জলাধারে পলির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের জাতীয় মহাসড়ক ৩১-কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।'

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং এলাকায় ভূমিধস হয়েছিল। এটি রেল প্রকল্প থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে।

শুধু পরিবেশবিদরাই নন, এই রেল প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। তারা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের বন অধিকার আইন লঙ্ঘিত হয়েছে।

আইন মতে, বন এলাকায় কোনো অবকাঠামো তৈরির আগে সেখানকার বাসিন্দাদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

সেখানকার গ্রামবাসীদের সংগঠন ফরেস্ট রাইটস কমিটির সভাপতি অমৃত ছেত্রি গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমাদের কাছে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।'

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরোধিতার কারণে রেল প্রকল্পটির কাজে দেরি হচ্ছে। এমনকি, প্রস্তাবিত ১৪টি টানেলের কোনোটির কাজ এখনো শেষ হয়নি।