সবার চোখ ইসলামাবাদে
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তানে ঘটতে যাচ্ছে এক নতুন ঘটনা। দেশটির ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে দিতে হচ্ছে রাজনৈতিক 'অগ্নিপরীক্ষা'। রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ঘটতে যাওয়া সেই ঐতিহাসিক ঘটনার দিকে এখন সবার দৃষ্টি।
আজ রোববার দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক বসছে। সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে সরাতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে মোট ৩৪২ সদস্যের মধ্যে ১৭২ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন। প্রতিবেদন মতে, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থাৎ ইমরানবিরোধী সদস্যের সংখ্যা ১৭৭। আর ইমরানের পক্ষে রয়েছেন ১৬২ জন।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ইমরানের দল পিটিআই'র সদস্য ১৫৫ জন। আরও ৪টি ছোট দলের সমর্থন নিয়ে তথা ১৬৪ জনের সমর্থন নিয়ে তিনি সরকার গঠন করেছিলেন।
এমতাবস্থায় পিটিআই'র ডজনখানেক সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে ইমরানের ওপর তাদের অনাস্থার কথা জানিয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ'র প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আনা অনাস্থা প্রস্তাবকেই পরাজিত করবেন বলে আশা করছেন ইমরান খান। 'শেষ বল পর্যন্ত খেলবেন' বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এতে আরও বলা হয়, তিনি অনাস্থা ভোটে হেরে গেলে, তা নাও মেনে নিতে পারেন। এই অনাস্থা ভোটের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত আছে বলে বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, 'কীভাবে এমন ফল মেনে নেব, যখন পুরো প্রক্রিয়াতেই গলদ আছে?'
মনে হতে পারে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনায় এমন কি বৈচিত্র্য থাকতে পারে? কিন্তু দেশটি যখন পাকিস্তান, তখন প্রতিবেশী ছাড়াও গোটা বিশ্বের চোখ থাকে সেখানকার ঘটনা প্রবাহে।
পাকিস্তানের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় আজ দেশটির পার্লামেন্টে লিখিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রভাবশালী দৈনিক ডন'র সম্পাদকীয়কে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কোনো নজিরবিহীন ঘটনা নয়। তবে প্রথমবারের মতো জাতীয় পরিষদে ঘটতে যাচ্ছে একটি সরকারের সম্ভাব্য পতনের ঘটনা।
এতে আরও বলা হয়, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে নিজের 'রাজনৈতিক শাহাদাত বরণ' হাসিমুখে মেনে নেবেন না ইমরান খান। ইতোমধ্যে তিনি দেশের তরুণদের প্রতি 'শান্তিপূর্ণ' প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। তিনি তার সম্ভাব্য পতনের পেছনে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকে দায়ী করছেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২ দিনের সফরে মস্কো গিয়েছিলেন ইমরান খান। উদ্দেশ্য, রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা। এর পরদিন, তথা ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায় রাশিয়া।
এই আগ্রাসনের নিন্দা না করে উল্টো পশ্চিমের দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন পিটিআই-প্রধান। প্রকারান্তরে, রাশিয়ার সাফাই গেয়েছিলেন তিনি। এরপর, যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলো নড়েচড়ে বসে।
ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের এই ডামাডোলে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের প্রতিবাদ করেছেন।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এখন ইউক্রেন-রাশিয়ার দ্বন্দ্ব যেন পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে পরিণত হতে যাচ্ছে।