ভারতের মতো পাকিস্তানও পশ্চিমের চাপে মাথা নোয়াবে না: ইমরান খান
ভারত বরাবরই পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী পাকিস্তান ছিল ব্যতিক্রম। ১৯৪৭ সালে উপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তান 'চিরবৈরী' ভারতকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছিল।
২০০১ সালে নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ার হামলার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। গত ২ দশকে সেই সম্পর্ক যেন তলানিতে ঠেকেছে। এর প্রমাণ মেলে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরু সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মস্কো সফরের মাধ্যমে।
আজ সোমবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটি জানিয়েছে— ইমরান খান বলেছেন, ভারতের মতো পাকিস্তানও পশ্চিমের চাপে মাথা নোয়াবে না।
প্রতিবেদন মতে, গতকাল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোওয়া প্রদেশের দরগাই শহরে ক্ষমতাসীন তেহরিক-ই-ইনসাফ'র জনসভায় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইউক্রেনে 'বিশেষ সামরিক অভিযানের' পর যারা পাকিস্তানকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের চাপ দিচ্ছে তাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
পাকিস্তান কেন ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে রাশিয়ার নিন্দা করেননি তার ব্যাখ্যায় ইমরান খান বলেন, 'তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে পাকিস্তান হয়তো কিছুই পাবে না।'
তিনি জানান, 'কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে' জাপান, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ অন্তত ২৪ দেশের কূটনীতিক গত ১ মার্চ চিঠিতে পাকিস্তানকে এমন 'অনুরোধ' করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী জোটে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের কোনো লাভ তো হয়ইনি উল্টো ক্ষতি হয়েছে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে ইমরান খান বলেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় শপথে বলেছিলাম, আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করবো না। আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম। এতে আমাদের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ক্ষতি হয়েছে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার।'
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিয়েভের বিরুদ্ধে মস্কোর 'সামরিক অভিযানের' নিন্দা সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকা ৩৫ দেশের মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে। এ সংকটে 'নিরপেক্ষ' থাকার বার্তা নিয়ে চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতও ভোটদানে বিরত ছিল।
এরপর থেকে অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানের ওপর পশ্চিমের প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতো ইমরান খানও নিজ দেশের জনগণের মঙ্গলের কথা ভেবে 'স্বাধীনভাবে' সিদ্ধান্ত নিতে চান।
'নিরপেক্ষ' থাকার কারণে ভারতও আন্তর্জাতিক চাপ ও সমালোচনার মুখে রয়েছে। তবুও দেশটি নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কেনার ঘোষণা দিয়েছে। অথচ অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ভয়ে তা করছে না।
এখন দেখার বিষয় আগামী শুক্রবার সংসদে 'আস্থা ভোটে' জেতার পর কোন পথে হাঁটেন ইমরান খান।