বিকল্প জীবিকার অভাবে আফগানিস্তানে পপি চাষ বাড়ছে

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর মাদক ব্যবসা নির্মূল ও আফিম উৎপাদন নিষিদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা দিলেও বিভিন্নভাবে এটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আফিম উৎপাদন হয় আফগানিস্তানে এবং বিকল্প জীবিকার অভাবে তালেবানের সতর্কতা সত্ত্বেও সেখানকার কৃষকরা আফিম চাষ করে চলেছেন।

ইন্ডিয়া টুডে জানায়, গত ১৫ আগস্ট ক্ষমতায় আসার পরপরই তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন, নতুন সরকার দেশে মাদক ব্যবসার অনুমতি দেবে না।

তিনি বলেন, 'আমরা মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে, আমরা মাদকের উৎপাদন নির্মূল করার চেষ্টা করছি। তবে এটা তখনই সম্ভব যখন সারাবিশ্ব আমাদের কৃষকদের ক্ষমতায়ন এবং তাদের জীবিকা অর্জনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে সাহায্য করবে।'

আফগান কৃষক আভা ওয়ালি আল-জাজিরাকে বলেন, 'আমরা পপি চাষ করি, কারণ আমাদের পরিবারের বেঁচে থাকার জন্য রুটি-রুজির ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো সরকারই আমাদের সাহায্য করেনি। অন্যান্য ফসল উৎপাদনের জন্য এখানে পর্যাপ্ত পানি নেই, তাই পপি চাষই আমাদের একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠেছে।'

gwrmookvjvmutb2qwba4w463ja.jpg
জালালাবাদ প্রদেশের একটি পপি খেত। ছবি: রয়টার্স

গত বছর আফগানিস্তানে পপি চাষ ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি সারাদেশে আয়ের একটি প্রধান উৎস। এই গাছ এবং এটি থেকে যে ওষুধ উৎপাদন হয় তা বহু মিলিয়ন ডলারের শিল্প। জাতিসংঘের হিসেবে, আফগানিস্তানে আফিম চাষে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আরেক কৃষক হাজী মুহম্মদ হাশিম বলেন, 'আমার আলু, পেঁয়াজ ও ডালিমের অন্যান্য খামার আছে, কিন্তু সীমান্ত বন্ধ থাকায় পুরো ফলনই নষ্ট হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে তা পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু আমি যখন আফিম চাষ করি, তখন ক্রেতারা আমার বাড়িতে নগদ টাকা নিয়ে কিনতে আসে। আমাদের বাজারে যেতেও হয় না।'

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও তহবিল পাওয়ার কৌশল হিসেবে তালেবান মাদক নির্মূলের এ উদ্যোগ নিয়েছিল। যদিও আফিম উৎপাদন দেশটির একটি বড় অংশকে টিকিয়ে রাখে।

ড. আহমদ জহির সুলতানি বলেন, 'যুদ্ধের কারণে আমাদের সমস্যা হয়েছে। মাদকাসক্তি, অশিক্ষা, অবৈধ উদ্বাস্তু এবং বেকারত্বের সমস্যা সম্পর্কে কোনো সচেতনতা ছিল না। এসব কারণেই এখানে মানুষ মাদকের দ্বারা এত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।'

poppy.jpg
গত বছর আফগানিস্তানে পপি চাষ ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: রয়টার্স

মাদকের হুমকি মোকাবিলার জন্য তালেবান সদস্যরাও মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

সিএনএন'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী আফগানিস্তানের জিডিপির ১১ শতাংশ আফিম থেকে আসে। তালেবানও এখান থেকে লভ্যাংশ পায়। কিন্তু কতটা পায়, তা স্পষ্ট নয়।

পর্যবেক্ষক ডেভিড ম্যানসফিল্ড জানান, তালেবান ২০২০ সালে ২০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছে। যদিও তারা প্রকাশ্যে সবসময়ই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের আগে ২০০০-২০০১ সালে তালেবান ক্ষমতায় থাকাকালে আফিম চাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতেও সফল হয় তালেবান। ফলে সেসময় বিশ্বের আফিম সরবরাহ ৬৫ শতাংশ কমে যায়। আফগানিস্তানে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হয়।

এবারও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে কর্মসংস্থান সংকট তৈরির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে সহিংসতার ঘটনাও বাড়তে পারে।